Popular Products

Recent Products

Showing posts with label Humayun Ahmed. Show all posts

আজ হিমুর বিয়ে   হুমায়ূন আহমেদ হিমুর খালা মাজেদা বেগম হিমুর বিয়ে ঠিক করেছেন। পাত্রীর নাম রেণু। কিন্তু হিমু তো বিয়ে করবে না। বাবার আদেশ বলে কথ...

Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed

Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
আজ হিমুর বিয়ে
 হুমায়ূন আহমেদ



হিমুর খালা মাজেদা বেগম হিমুর বিয়ে ঠিক করেছেন। পাত্রীর নাম রেণু। কিন্তু হিমু তো বিয়ে করবে না। বাবার আদেশ বলে কথা। হিমুদের কখনো প্রেমে পড়তে হয় না, বিয়ে করতে হয় না, তাদের লক্ষ্য মহাপুরুষ হওয়া- অসংখ্য নিয়মকানুন আছে মেনে চলতে হয় হিমুদের। মাজেদা খালাও এসব জানেন। আর তাই তিনি জোর করেই হিমুকে বিয়ে দিতে চান রেণুর সাথে। কিন্তু রেণু পচ্ছন্দ করে অন্য এক ছেলেকে। ছেলেটির নাম তূর্য। তূর্য ছেলেটি এডিক্টেড। রেণুর বাবা হিমুর খালুর বন্ধু। রেণুর বাবা একজন আমেরিকান আর মা বাংলাদেশী। রেণুর বাবা-মায়ের বহু আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আর এই ছাড়াছাড়ির পেছনে রেণু তার মাকে দায়ী করে। যাই হোক, রেণু কোনভাবেই হিমুকে বিয়ে করতে চায় না। সে চায় তূর্যকে বিয়ে করতে। কিন্তু তূর্যকে পুলিশ হাজতে ধরে নিয়ে গেছে। আবার হিমুর খালুও চায় না রেণুর সাথে হিমুর বিয়ে হোক। কারণ হিমুর খালু হিমুকে সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু মাজেদা খালা হিমুকে এতো বেশি পচ্ছন্দ করেন আর স্ত্রীর ভয়ে খালু হিমুকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারে না। হিমু নিজেও এই বিয়েতে রাজি না। কিন্তু খালাকে এসব বলে কোন লাভ নেই। তাই ঠিক করে হিমু পালাবে এই বাসা থেকে। খালুর গাড়ি নিয়ে বের হয় হিমু। খালাকে বলে যায় রেণুর শাড়ি কিনার কথা। তারপর...? তারপর কি হিমু সত্যিই পালায় নাকি আবার ফিরে আসে রেণুর কাছে? সেইসব মজার ঘটনা নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদের "আজ হিমুর বিয়ে"!



Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed



                                                                      অচিনপুর                                                             ...

Achinpur by Humayun Ahmed

Achinpur by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
                                                                      অচিনপুর
                                                                       হুমায়ূন আহমেদ


হুমায়ূন আহমেদ সচরাচর যে ধরনের উপন্যাস লেখেন ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি সে ধাঁচের নয়। এটা গতানুগতিক ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি উপন্যাস। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি গঠনগত বৈশিষ্ট্যে যেমন অনন্য, তেমনি বিষয়গত বৈচিত্র্যেও স্বতন্ত্র। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের বেশিরভাগ লেখকের মতই সাধারণত তৃতীয় পুরুষে উপন্যাস লিখে থাকেন। কিন্তু ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি লেখা হয়েছে প্রথম পুরুষে। অর্থাৎ, গল্পকথক নিজেই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। এখানে গল্পকথক মূলত তার শৈশব জীবনের নানা সুখ-দুঃখের ঘটনার কথা খুব সাবলীল এবং নির্লিপ্তভাবে বর্ণনা করে গেছেন। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে প্রথম পুরুষে বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক এতটাই মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যে, উপন্যাসের শুরুতে কিছুক্ষণ এই বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনী ভেবে ভুল করাও অস্বাভাবিক না। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে গল্পকথকের নাম রঞ্জু। রঞ্জুর যখন তিন মাস বয়স তখন তার মা, রঞ্জু আর তার বোনকে নিয়ে অসহায়ের মত একদিন বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে রঞ্জু নানার বাড়িতেই বড় হয়েছে। কিন্তু রঞ্জু বরাবরই খুব ভাগ্যহত। তাই খুব অল্প বয়সে সে তার মাকেও হারায়। তখন নানার বাড়িতে রঞ্জুর আপনজন বলতে বোন ছাড়া আর কেউ থাকলো না। সেই বোনেরও একদিন বিয়ে হয়ে গেল। তারপর বোন অনেক দূরে চলে গেল। তার আর কোন খোঁজ-খবর নাই। রঞ্জুর নানা অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু তারপরও সেই যৌথ পরিবারে রঞ্জু বলতে গেলে অবাঞ্ছিতের মতই বড় হতে লাগলো। এরপর পাঠক ধীরে ধীরে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে রঞ্জুর নানাবাড়ির বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচিত হবেন। এখানে রঞ্জুর ছেলেবেলার সাথী, তার লাজুক ভীতু নবু মামার কথা উঠে আসবে। তার খেয়ালী বাদশা মামার কথা উঠে আসবে। সেই বাদশাহ মামার অসাধারণ সুন্দরী, লাল টুকটুকে বউ এলাচির কথা উঠে আসবে। এলাচিকে রঞ্জু লাল মামী আর নবু মামা লাল ভাবী বলে ডাকতো। বাদশাহ মামার বিয়ের পর রঞ্জু আর নবু মামার মধ্যে সারাদিনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলতো, লাল মামীকে কে বেশি খুশি করতে পারে তা নিয়ে। এরপর নবু মামা একদিন পড়াশোনার জন্যে রাজশাহী চলে গেল। নবু মামা রাজশাহী চলে যাবার পর রঞ্জুর সফুরা খালার চরিত্রটি উপন্যাসে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সফুরা খালা রঞ্জুর চেয়ে এক বছরের বড়। খুব লাজুক মেয়ে, সারাদিন একা একা খেলাধুলা করে। কখনও আবার সন্ধ্যার সময় একা একা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। রঞ্জুর ছোটবেলা থেকেই খুব শখ সফুরা খালার সাথে ভাব করার। নবু মামা চলে যাবার পর একসময় তার সফুরা খালার সাথে মোটামুটি ভাব হয়ে যায়। এদিকে নবু মামা এনট্রান্স পাশ করে যখন ফিরে আসলো তখন সে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্র। সে আর কাউকেই পরোয়া করে না। কিন্তু তার সেই ছোটবেলার লাল মামীর প্রতি ভালোবাসা তখনই একই রকম রয়ে গেছে। বরং তাতে আরও মাদকতা, আরও উন্মাদনা যুক্ত হয়েছে। তারপর এক প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির রাতে দেখা যায়, নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে ঘরের দরোজা-জানালা লাগিয়ে দিয়ে গান শুনছে। কিন্তু একসময় সে গানও থেমে যায়। তাও নবু মামা আর তার ঘরে ফিরে আসে না। এ সময় বাদশাহ মামা বাড়ির বাহিরে ছিল। ঠিক সে সময়, সফুরা খালা নবু মামার খোঁজে রঞ্জুর কাছে আসে। কিন্তু নবু মামা, লাল ভাবীর সাথে শুনে সফুরা খালা বিদ্যুৎপৃষ্ঠের মত সে রাতে চলে গিয়েছিলো। রঞ্জুর বালক-মন তখন অত কিছু বুঝতে পারে নি। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেখা গেল নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। তারপর একদিন, রঞ্জুর বোন লিলি রঞ্জুকে তার কাছে নিয়ে যাবার জন্যে চিঠি লিখলো। রঞ্জু তার ছেলেবেলার সমস্ত বন্ধন, আজন্ম স্মৃতিবিজড়িত নানার বাড়ি ছেড়ে এক অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে থাকলো। রঞ্জু অনুধাবন করলো, এতদিন সে যাদের আনন্দে আনন্দিত হয়েছে, যাদের দুঃখে দুঃখী হয়েছে তারা আসলে তার কেউ না। এ সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে, সব টান পিছে ফেলে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের বর্ণনা শক্তির অসাধারণ পরিচয় পাওয়া যায়। হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত সংলাপ নির্ভর উপন্যাস লিখেন। কিন্তু এই উপন্যাসটি বর্ণনা নির্ভর। আর সে বর্ণনার ভঙ্গি এতটাই নির্মোহ যে, যখন তিনি গল্পের মধ্যে ফ্রয়েডীয় কামের ব্যাপার তুলে আনলেন তখনও পাঠক বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। বরং পাঠকের মনে হবে এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। এই উপন্যাসে লেখক খুব সাবধানতার সাথে গ্রাম-বাংলার জীবনের প্রতিটি দিক ছুঁয়ে গিয়েছেন। এখানে গ্রামীণ জীবনে জীন-পরীর ব্যাপারগুলোকে কীভাবে দেখা হয় তা যেমন গল্পের অংশ হয়ে উঠে এসেছে, আবার পীর-ফকির বা বাণ মারার প্রসঙ্গও বাদ যায় নি। আবার গ্রামীণ প্রভাবশালী মানুষের অহংকার বোধ যেভাবে বিনয়ের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেত তা রঞ্জুর নানার চরিত্রটির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আর প্রতিটি দৃশ্যের বর্ণনা লেখক এত নিখুঁত আর বিস্তৃতভাবে দিয়েছেন যে, পাঠকমাত্রই চোখের সামনে ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন। উপন্যাসের একদম শেষে দেখানো হয়, লাল মামী সব হারিয়ে একটি শিশু কন্যাকে নিয়ে আবার সেই বাড়িতেই ফিরে এসেছে। যে বাড়িতে বহু বছর আগে, ঠিক এরকমই নিঃস্ব অবস্থায় দু’সন্তানকে নিয়ে রঞ্জুর মা এসেছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে যেন, লেখক একটি চক্র সম্পন্ন করলেন। আমাদের বাংলার আনাচে-কানাচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, শত-সহস্র পরিবারে যে চক্র নিয়ত চলমান আছে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এই মাপের একটি সৃষ্টিই একজন সাহিত্যিককে অমর করে রাখার জন্যে যথেষ্ট। এই উপন্যাসটি তার সময়ের সীমাকে অতিক্রম করেছে। এমনকি এই উপন্যাসের কিছু কিছু বিষয় শুধু বাঙালি জাতি বা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং যে কোন সমাজের জন্যেই সমানভাবে সত্য। ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রথম পুরুষে লেখা উপন্যাস সব সময়ই পছন্দের। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের উপন্যাস খুব কমই পাওয়া যায়। ‘অচিনপুর’ নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এই ঘরানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। মহৎ সাহিত্যের রসাস্বাদনে আগ্রহী সকল পাঠকের জন্যেই এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।






Achinpur by Humayun Ahmed





আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ                                                                                 হুমায়ূন আহমেদ ১৩টি ছোটগলপের সংকলন।...

Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed

Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ
                                                                               হুমায়ূন আহমেদ




১৩টি ছোটগলপের সংকলন।

* মিস মনোয়ারা
* কাকারু
* পঙগু হামিদ
* ফোরটি নাইন
* সগিরন বুয়া
* নয়া রিকশা
* আজ দুপুরে তোমার নিমনতরণ
* আনোভা
* তিনি
* আলাউদদিনের ফাঁসি
* ভালোবাসা
* টিকটিকি
* ভূ

শারমিনের এই রকম পরিণতিতে আমার আক্ষেপ বেশী ইমনের জন্য। আর মিস মনোয়ারা হচ্ছে সমসাময়িক মানুষরূপী নিকৃষ্ট সুবিধাবাদিদের পরিচয় বহন করে। আর মেয়ে সুমির জন্য আশরাফুদ্দিনদের এই শূন্যতা চিরায়ত।এইদিকে পঙ্গু হামিদ তো সমসাময়িক আসল আর নকল মুক্তিযোদ্ধার দলাদলির প্রতি ইঙ্গিত দেয়।আর এর পরিণতি যে আমাদের জন্য কতটা নির্মম হতে পারে হামিদের কাপুরুষতা তারই প্রমাণ।



Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed


আজ চিত্রার বিয়ে                                                                     হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ে...

Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed

Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
আজ চিত্রার বিয়ে
                                                                    হুমায়ূন আহমেদ

উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ের নাম শায়লা বানু, বাবা চৌধুরী খলিলুর রহমান সাহেব আর চিত্রার ছোট বোনের নাম মীরা।

চিত্রার বাবা খলিলুর রহমান সাহেব ছোটখাটো একটা চাকরি করেন। তিনি মোটেও একজন সংসারী মানুষ না। সংসার নিয়ে তার চিন্তাভাবনা খুব কম বলেই শায়লা বানু মানে চিত্রার মাকে সবকিছু সামাল দিতে হয়। শায়লা বানু একটা এনজিওতে চাকরিও করেন সংসারের আর্থিক সুবিধার জন্য। এমনকি চিত্রার বিয়ের ব্যাপারেও তার বাবার কোন চিন্তা নেই। চিত্রার মা তার বোনের সহায়তায় ছেলে খুজেঁ চিত্রার জন্য।
শেষমেশ চিত্রার বিয়ে ঠিক হলো এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে। এদিকে চিত্রার ছোট বোন মীরা কারো সাথে ইদানিং ফোনে খুব কথা বলে। শায়লা বানুর ধারণা ফোনের অপর প্রান্তের ছেলেটার নাম বাড়ির ভাড়াটে নিজাম সাহেবের ভাইপো মজনু। কিন্তু মজনুর ঘর নাই, বাড়ি নাই, থাকার জায়গা নাই; তাকে কি করে মীরা পচ্ছন্দ করে? শায়লা বানুর মাথায় এটা আসে না!
খলিলুর রহমান সাহেবের একমাত্র ছোট বোন ফরিদা। তার স্বামী জহিরউদ্দীন। অভাবের তাড়নায় ফরিদার চুরির অভ্যাস হয়ে গেছে। শায়লা বানু ফরিদাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। সে চায়ও না ফরিদার চিত্রার বিয়েতে থাকুক। এদিকে চিত্রার বিয়ের দ দিনই ফরিদার স্বামী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আবার ভাইয়ের বাসায় এসে থাকার উপায় নেই ফরিদার।

সবমিলিয়ে এক বিচ্ছিরি অবস্থা! এরই মাঝে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। চিত্রার বিয়ের দিনের সেই সব কাহিনী নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদের “আজ চিত্রার বিয়ে”!



Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed



আজ আমি কোথাও যাবো না                                                            হুমায়ূন আহমেদ জয়নাল দু’বার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে- দু’...

Aaj Ami Kothao Jabo Na by Humayun Ahmed

Aaj Ami Kothao Jabo Na by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
আজ আমি কোথাও যাবো না
                                                           হুমায়ূন আহমেদ



জয়নাল দু’বার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে- দু’বারই ধরা খেয়েছে।
নকলের খুব সুবিধা ছিল। শিক্ষকরাও নকল সাপ্লাই-এ সাহায্য করেছেন,
তাতেও লাভ হয়নি।
এই জয়নাল ছোট মানুষ হয়েও অনেক বড় স্বপ্ন দেখে। 

শামসুদ্দিন সাহেব নান্দাইল হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক।
সারা জীবনে একটি ও মিথ্যা কথা বলেন নি। কোনো মন্দ কথা বলেন নি।
তিনি অনেক বড় মানুষ হয়েও ছোট স্বপ্ন দেখেন।

স্বপ্ন দেখে রাহেলা ও ইতি। একেক জনের স্বপ্ন
একেক রকম।

‘আজ আমি কোথাও যাব না’ কিছু মানুষের স্বপ্ন ও 
স্বপ্নভঙ্গের গল্প।









একজন মায়াবতী হুমায়ূন আহমেদ লেখকের লেখার ভেতর যে কতটা মায়া থাকে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ একজন মায়াবতী। এ যেন লেখকের লেখার মায়া! বইটি মানব প্রকৃতি এ...

Ekjon Mayabati by Humayun Ahmed

Ekjon Mayabati by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
একজন মায়াবতী
হুমায়ূন আহমেদ

লেখকের লেখার ভেতর যে কতটা মায়া থাকে তার উৎকৃষ্ট উদাহরণ একজন মায়াবতী। এ যেন লেখকের লেখার মায়া!

বইটি মানব প্রকৃতি এবং সম্পর্কের বেড়াজাল নিয়ে শব্দের রং তুলিতে আঁকা জীবনের গল্প। জটিল মানব মনের জটিল ভাবাবেগ তুলে ধরা হয়েছে গল্পটিতে। আধুনিক ধারার লোক দেখানো আর চাটুকারিতা ছাপিয়ে ভালোবাসাকে একটা নতুন মাত্রা দেওয়া হয়েছে। যে ভালোবাসা ধরা যায় না,ছোঁয়া যায় না। শুধু অন্তর দিয়ে অনুভব করতে হয়।

কিডনি সমস্যায় আক্রান্ত মনজুর। তার চিকিৎসার জন্য তোড়জোড় চলছে........

বাবার ক্যান্সার চিকিৎসার জন্য অনেক টাকা প্রয়োজন। বাবার ধারনা বিদেশে চিকিৎসা হলে তিনি ঠিক হয়ে যাবেন। আমাকে সবসময় বলতেন টাকার কথা।কিন্তু কাছে কোন টাকা ছিলো না। আমি আমার একটি কিডনি বিক্রি করে বাবার হাতে টাকা দিলাম। টাকা হাতে পাওয়ার দু দিনের মাথায় বাবা মারা যায়।

মা-বাবা-ভাই-বোন কেও নেই মনজুরের।ভালোবাসা হীন পৃথিবীতে মানুষ হয়েছে সে।এই প্রথম ভালোবাসা পাবে সে।সে জানে না ভালোবাসার মানে কি।কি করে ভালোবাসবতে হয় !
এই ভালোবাসাহীন পৃথিবীতে মীরাই তাকে শেখাবে ভালোবাসার মানে! ভালো কি করে ভাসতে হয়! অতি বুদ্ধিমতী মেয়ে মীরা কি তা পেরেছিলো?

গল্পের প্রয়োজনে, কাহিনী - সংলাপে আরো অনেক চরিত্র স্থান পেয়েছে উপন্যাসে। জীবন্ত সেই সব চরিত্র যেন আমাদের ভেতর খেলা করে সবসময়। আমাদের চারপাশে ঘুরে বেড়ায় চরিত্র গুলো। আমাদের জীবনের গল্পগুলো কেমন হয়? চারপাশের মানব প্রকৃতির উৎকৃষ্ট উদাহরণ জানতে হলে পড়তে হবে হুমায়ূন আহমেদের একজন মায়াবতী। 




আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি হুমায়ূন আহমেদ  এটি একটি সাইকো থ্রিলার। গল্পের প্রধান চরিত্র ফখরুদ্দিন চৌধুরী। বইটি উত্তমপুরুষে লেখা। ফখরুদ্দিনের নিজ...

Ami Abong Koakti Projapoti by Humayun Ahmed

Ami Abong Koakti Projapoti by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99

আমি এবং কয়েকটি প্রজাপতি
হুমায়ূন আহমেদ

 এটি একটি সাইকো থ্রিলার। গল্পের প্রধান চরিত্র ফখরুদ্দিন চৌধুরী। বইটি উত্তমপুরুষে লেখা। ফখরুদ্দিনের নিজের জবানিতে কাহিনী বর্ণনা করা।পড়ার সময় মনে হয় সে আপনাকেই গল্পটা বলছে। ফখরুদ্দিন সাহেবের বিয়ে নিয়ে একটা ঘটনা আছে। সে তার দূরসম্পর্কের মামার সাথে কনে দেখতে যায়। কনে পছন্দ হওয়াতে সেরাতেই তারা বিয়ের কাজ সমাধা করে রাখে। উল্লেখ্য যে ফখরুদ্দিনের মামা ইফতেখার সাহেব একজন সরকারী কাজি । বিয়ের পরদিন তার স্ত্রী তার সাথে থাকতে রাজি হন না।বিয়ে ভেঙ্গে দিতে সে কান্নাকাটি শুরু করে। এই ঘটনায় ফখরুদ্দিন বিয়ে ভেঙ্গে দেয়। এই ঘটনার বেশ কিছুদিন পর তার সাবেক স্ত্রীর ছোট বোনের সাথে আনুষ্ঠানিক ভাবে তার বিয়ে হয়।তার স্ত্রী রুপা বিয়ের কদিনের মাথায় মনে করে তার স্বামী মানসিক রুগী। সে ভুলিয়ে ভালিয়ে তাকে একজন সাইক্রিয়াটিস্ট এর কাছেও নিয়ে যায়। অবশ্য রুপার ওকে মানসিকভাবে অসুস্থ ভাবার অনেক কারন আছে। তারমধ্যে থেকে দুইটা ঘটনা বলি। ১. ফখরুদ্দিন সাহেবের একটা বদভ্যাশ হচ্ছে রাতে ঘুম ভেঙ্গে গেলে ছাদে শুয়ে থাকা। একদিন বৃষ্টির সময় রুপার ঘুম ভেঙ্গে গেলে সে ছাদে গিয়ে দেখে ফখরুদ্দিন বৃষ্টির মধ্যেই শুয়ে আছে। ছাদে পানি জমে গেছে, সে তার মধ্যেই শুয়ে আছে। ২. ফখরুদ্দিন একবার এক্সপেরিমেন্টের জন্য ১০ ব্যাগ রক্ত নিয়ে আসে। সে রক্ত সে পেয়ারা গাছের গুঁড়িতে দিয়ে দেখতে চাচ্ছে ফলাফল কি হয়। এই দুইটা ঘটনাই ফখরুদ্দিন কে মানসিক রুগী ভাবতে যথেষ্ট।আরও নানান ঘটনা আছে। ফখরুদ্দিন দুইটা খুন করে ঠান্ডা মাথায়। অবশ্য সে ফিজিক্যালি খুন টা করেনা। সাইকোলজিক্যাল ভাবে খুন করে। অবশ্য এগুলাও তার এক্সপেরিমেন্টের অংশ। ব্যক্তিগত মতামতঃ বিদেশে এরকম একটা সাইকো থ্রিলার বেরুলে হইচই পড়ে যেত। অথচ এই বই নিয়ে আমি কোনও হইচই দেখিনি। আমার কাছে যথেষ্ট ভালো লেগেছে। যারা সাইকো থ্রিলার পছন্দ করেন তাদের ভালো লাগবে আশা করি।





প্রেমের গল্প হুমায়ূন আহমেদ প্রেমের গল্প বলতে যা বোঝায় আমি সেরকম গল্প লিখতে পারি বলে মনে হয় না। একটা ছেলে একটা মেয়েকে বলছে "আমি তোমাকে ভ...

Premer Golpo by Humayun Ahmed

Premer Golpo by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99


প্রেমের গল্প
হুমায়ূন আহমেদ

প্রেমের গল্প বলতে যা বোঝায় আমি সেরকম গল্প লিখতে পারি বলে মনে হয় না। একটা ছেলে একটা মেয়েকে বলছে "আমি তোমাকে ভালবাসি" এটা আমার কাছে খুবই হাস্যকর মনে হয়। তারপরেও এধরনের গল্প যে লিখিনি তা না, তবে সেইসব গল্প অতিপ্রাকৃত ধরনের। পাথরের সঙ্গে প্রেম, মূর্তি বা ছায়ামূর্তির প্রতি গাড় অনুরাগের গল্প। পাঠক যখন প্রেমের গল্প পড়তে চান তখন মানব মানবীর সম্পর্কের গল্পই পড়তে চান। কাজেই আমার গল্প পড়ে হয়তো ভুরু কোঁচকাবেন। কি আর করা? আমি যা পেরেছি তাই লিখেছি। যা পারি না তা কি করে লিখবো। 






দেবী হুমায়ূন আহমেদ  মাঝরাতের দিকে রানুর ঘুম ভেঙ্গে গেল। তার মনে হলো ছাদে কে যেন হাঁটছে। সাধারণ মানুষের হাঁটা নয়, পা টেনে টেনে হাঁটা। সে ভয়ার...

Debi by Humayun Ahmed

Debi by Humayun Ahmed

Humayun Ahmed

8 10 99
দেবী
হুমায়ূন আহমেদ 





মাঝরাতের দিকে রানুর ঘুম ভেঙ্গে গেল।

তার মনে হলো ছাদে কে যেন হাঁটছে। সাধারণ মানুষের হাঁটা নয়, পা টেনে টেনে হাঁটা। সে ভয়ার্ত গলায় ডাকল, ‘এই, এই।’ আনিসের ঘুম ভাঙল না। বাইরে টিপটিপ করে বৃষ্টি পড়ছে। অল্প-অল্প বাতাস। বাতাসে জামগাছের পাতায় অদ্ভুদ এক রকমের শব্দ উঠছে। রানু আবার ডাকল, ‘এই, একটু ওঠ না। এই।’
‘কী হয়েছে?’
‘কে যেন ছাদে হাঁটছে।’
‘কী যে বল! কে আবার ছাদে হাঁটবে? ঘুমাও তো।’
‘প্লীজ, একটু উঠে বস। আমার বড় ভয় লাগছে।’
আনিস উঠে বসল। প্রবল বর্ষণ শুরু হলো এই সময়। ঝমঝম করে বৃষ্টি। জানালার পর্দা বাতাসে পতপত করে উড়তে লাগল। রানু হঠাৎ দেখল, জানালার শিক ধরে খালিগায়ে একটি রোগামতো মানুষ দাঁড়িয়ে আছে। মানুষটির দুটি হাতই অসম্ভব লম্বা। রানু ফিসফিস করে বলল, ‘ওখানে কে?’
‘কোথায় কে?’
‘ঐ যে জানালায়।’
‘আহ কী যে ঝামেলা কর! নারকেল গাছের ছায়া পড়েছে।’
‘একটু বাতিটা জ্বালাও না।’
‘রানু তুমি ঘুমোও তো।’
আনিস শোবার উপক্রম করতেই ছাদে বেশ কয়েক বার থপাথপ শব্দ হলো। যেন কেউ-এক জন ছাদে লাফাচ্ছে।
রানু চমকে উঠে বলল, ‘কিসের শব্দ?’
‘বানর। এ জায়গায় বানর আছে। কালই তো দেখলে ছাদে লাফালাফি করছিল।
‘আমার বড় ভয় করছে। একটু উঠে গিয়ে বাতিটা জ্বালাও না। পায়ে পড়ি তোমার।’
আনিস বাতি জ্বালাল। ঘড়িতে বাজে দেড়টা। ছাদে আর কোনো শব্দ শোনা যাচ্ছে না। তবু রানুর ভয় কমল না।
সে কেঁপে-কেঁপে উঠতে লাগল।
আনিস বিরক্ত স্বরে বলল, ‘এরকম করছ কেন?’
‘কেন জানি অন্য রকম লাগছে আমার। একটা খুব খারাপ স্বপ্ন দেখেছি।’
‘কী স্বপ্ন?’
‘দেখলাম আমি যেন….
কথার মাঝখানে হঠাৎ রানু থেমে গেল। কে যেন হাসছে। ভারি গলায় হাসছে। রানু কাঁপা স্বরে বলল, ‘হাসির শব্দ শুনতে পাচ্ছ? কে যেন হাসছে।’
‘কে আবার হাসবে। বানরের শব্দ। কিংবা কেউ হয়তো জেগে উঠেছে দোতলায়।’
আনিস লক্ষ্য করল, রানু খুব ঘামছে। চোখ-মুখ রক্তশূণ্য। বালিশের নিচ থেকে সিগারেটের প্যাকেট বের করল। দেশলাই জ্বালাতে-জ্বালাতে বলল, ‘কী স্বপ্ন দেখেছিলে?’
‘দিনের বেলা বলব।’
‘কী যে সব কুসংস্কার তোমাদের! এখনো ভয় লাগছে?’
‘হ্যাঁ।
‘ভয়টা কিসের? চোর-ডাকাতের, না ভূতের?’
‘বুঝতে পারছি না।’
‘ঠিক আছে বাতি জ্বালানোই থাক। বাতি জ্বালিয়েই ঘুমাব আজকে। এখন বল দেখি কী স্বপ্ন দেখলে?’
‘দিনের বেলা বলব।’
‘আহ্‌ বল না! বললেই ভয় কেটে যাবে।’
রানু আনিসের বাঁ হাত শক্ত করে চেপে ধরল। থেমে-থেমে বলল, ‘দেখলাম, একটা ঘরে আমি শুয়ে আছি। একটা বেঁটে লোক এসে ঢুকল। তারপর দেখলাম, সে আমার শাড়ি টেনে খুলে ফেলার চেষ্টা করছে।’
আনিস শব্দ করে হাসল।
রানু বলল, ‘হাসছ কেন?’
‘হাসব না? এটা কি একটা ভয় পাওয়ার স্বপ্ন?’
‘তুমি তো সবটা শোনো নি।’
‘সবটা শুনতে হবে না। পরে কী হবে তা আমার জানা। তুমি যা দেখেছ তা হচ্ছে একটা সেক্সুয়াল ফ্যান্টাসি। যুবক-যুবতীরা এ রকম স্বপ্ন প্রায়ই দেখে।’
‘আমি দেখি না।’
‘তুমিও দেখ। মনে থাকে না তোমার।’
‘আমি স্বপ্ন খুব কম দেখি। যা দেখি তা সব সময় সত্যি হয়। তোমাকে তো বলেছি অনেক বার।’
আনিস চুপ করে রইল। রানু এই কথাটি প্রায়ই বলে। বিয়ের রাতে প্রথম বার বলেছিল। আনিস সেবারও হেসেছে। রানু অবাক হয়ে বলেছে, ‘আপনি আমার কথা বিশ্বাস করলেন না, না?’
‘নাহ।’
‘আমি আমি আপনার গা ছুঁয়ে বলছি, বিশ্বাস করুন আমার কথা।’
রানু এমনভাবে বলল, যেন আনিসের বিশ্বাসের উপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। আনিস শেষ পর্যন্ত হাসি মুখে বলল, ‘ঠিক আছে বিশ্বাস করলাম, এখন দয়া করে আপনি-আপনি বলবে না।’ রানু ফিসফিস করে বলল, ‘আপনার সঙ্গে যে আমার বিয়ে হবে, সেটাও আমি জানতাম।’
‘এটাও স্বপ্নে দেখেছিলে?’
‘হুঁ। দেখলাম, একটি লোক খালিগায়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার পেটের কাছে একটা মস্ত কাটা দাগ। লোকটিকে দেখেই আমার মনে হলো, এর সঙ্গে আমার বিয়ে হবে। আমি তাকে বললাম, কেটেছে কীভাবে? আপনি বললেন, ‘সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে ব্যথা পেয়েছিলাম।’
আনিস সে রাতে দীর্ঘক্ষণ কোনো কথা বলতে পারে নি। তার পেটে কেটা কাটা দাগ সত্যি-সত্যি আছে, এই মেয়েটির সেটি জানার কথা নয়। তবে সাইকেল থেকে পড়ে গিয়ে কাটে নি। জামগাছ থেকে পিছলে পড়ে কেটেছে। ব্যাপারটা কাকতালীয়, বলাই বাহুল্য। মাঝে-মাঝে এমন দুই-একটা জিনিস খুব মিলে যায়। তবুও কোথায় যেন একটা ক্ষীণ অস্বস্তি থাকে।
বাইরে বৃষ্টি খুব বাড়ছে। ঝড়টর হবে বোধহয়। শোঁ-শোঁ আওয়াজ হচ্ছে জানালায়। একটি কাঁচ ভাঙ্গা। প্রচুর পানি আসছে ভাঙ্গা জানালা দিয়ে, শীত-শীত করছে।
‘রানু চল ঘুমিয়ে পড়ি।’
‘সিগারেট শেষ হয়েছে?’
‘হ্যাঁ।’
বিছানায় ওঠামাত্র প্রবল শব্দে বিদ্যুৎ চমকাল। বাতি চলে গেল সঙ্গে-সঙ্গে। শুধু এ অঞ্চল নয়, সমস্ত ঢাকাই বোধ করি অন্ধকার হয়ে গেল। আনিস বলল, ‘ভয় লাগছে রানু?’
‘হ্যাঁ।
‘আচছা একটা হাসির গল্পটল্প কর। এতে ভয় কমে যায়। বল একটা গল্প।’
‘তুমি বল।’
আনিস দীর্ঘ সময় নিয়ে এক জন পাদ্রী ও তিনটি ইহুদি ও তিনটি মেয়ের গল্প বলল। গল্পের এক পর্যায়ে শ্রোতাকে জিজ্ঞেস করতে হয়–পাদ্রী তখন কী বলল?
এর উত্তরটি হচ্ছে পাঞ্চ লাইন, কিন্তু কিচ্ছু জিজ্ঞেস করল না রানু। সে কি শুনছে না? আনিস ডাকল, ‘এই রানু, এই!’ রানু কথা বলল না। বাতাসের ঝাপটায় সশব্দে জানালার একটি পাল্লা খুলে গেল। আনিস বন্ধ করার জন্য উঠে দাঁড়াতেই রানু তাকে জড়িয়ে ধরে কাঁপা গলায় বলল, ‘তুমি যেও না। খবরদার, যেও না!’
‘কী আশ্চর্য, কেন?’
‘একটা-কিছু জানালার ওপাশে দাঁড়িয়ে আছে।’
‘কী যে বল!’
‘প্লীজ, প্লীজ।’
রানু কেদে ফেলল। ফোঁপাতে-ফোঁপাতে বলল, ‘তুমি গন্ধ পাচ্ছ না?’
‘কীসের গন্ধ?’
‘কর্পূরের গন্ধের মতো গন্ধ।’
এটা কি মনের ভুল? সু্‌ক্ষ্ম একটা গন্ধ যেন পাওয়া যাচ্ছে ঘরে। ঝনঝন করে আরেকটা কাঁচ ভাঙল। রানু বলল, ‘ঐ জিনিসটা হাসছে। শুনতে পাচ্ছ না?’ বৃষ্টির শব্দ ছাড়া আনিস কিছু শুনতে পেল না।
‘তুমি বস তো। আমি হারিকেন জ্বালাচ্ছি।’
‘না তুমি আমাকে ধরে বসে থাক।’
আনিস অস্বস্তির সঙ্গে বলল, ‘তুমি ঐ জানালাটার দিকে আর তাকিও না তো!’ আনিস লক্ষ্য করল, রানু থরথর করে কাঁপছে, ওর গায়ের উত্তাপও বাড়ছে। রানুকে সাহস দেবার জন্যে সে বলল, ‘কোনো দোয়া-টোয়া পড়লে লাভ হবে? আয়াতুল কুর্সি জানি আমি। আয়াতুল কুর্সি পড়ব?’
রানু জবাব দিল না। তার চোখ বড়-বড় হয়ে উঠছে। মুখ দিয়ে ফেনা ভাঙছে নাকি? শ্বাস ফেলছে টেনে-টেনে।
‘এই রানু, এই।’
কোনোই সাড়া নেই। আনিস হ্যারিকেন জ্বালাল। রান্নাঘর থেকে খুটখুট শব্দ আসছে। ইঁদুর, এতে সন্দেহ নেই। তবু কেন জানি ভালো লাগছে না। আনিস বারান্দায় এসে ডাকল, ‘রহমান সাহেব, ও রহমান সাহেব।’ রহমান সাহেব বোধহয় জেগেই ছিলেন। সঙ্গে সঙ্গে বেরুলেন।
‘কী ব্যাপার?’
‘আমার স্ত্রী অসুস্থ হয়ে পড়েছে।’
‘কী হয়েছে?’
‘বুঝতে পারছি না।’
‘হাসপাতালে নিতে হবে নাকি?’
‘বুঝতে পারছি না।’
‘আপনি যান, আমি আসছি। এক্ষুণি আসছি।’
আনিস ঘরে ফিরে গেল। মনের ভুল, নিঃসন্দেহে মনের ভুল। আনিসের মনে হলো সে ঘরের ভেতর গিয়ে দাঁড়ানো মাত্র কেউ-এক জন যেন দরজার আড়ালে সরে পড়ল। রোগা, লম্বা একটি মানুষ। আনিস ডাকল, ‘রানু।’ রানু তৎক্ষণাৎ সাড়া দিল, ‘কি?’
ইলেকট্রিসিটি চলে এল তখনই। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই রহমান সাহেব এসে উপস্থিত হলেন। উদ্বিগ্ন স্বরে বললেন, ‘এখন কেমন অবস্থা?’ রানু অবাক হয়ে বলল, ‘কিসের অবস্থা? কী হয়েছে?’
রহমান সাহেব অবাক হয়ে তাকালেন। আনিস বলল, ‘তোমার শরীর খারাপ করেছিল, তাই ওঁকে ডেকেছিলাম। এখন কেমন লাগছে?’
‘ভালো।’
রানু উঠে বসল। রহমান সাহেবের দিকে তাকিয়ে মৃদু স্বরে বলল, ‘এখন আমি ভালো।’
রহমান সাহেব তবু মিনিট দশেক বসলেন। আনিস বলল, ‘আপনি কি ছাদে দাপাদাপি শুনেছেন?’
‘সে তো রোজই শুনি। বাঁদরের উৎপাত।’
‘আমিও তাই ভাবছিলাম।’
‘খুব জ্বালাতন করে। দিনে-দুপুরে ঘর থেকে খাবারদাবার নিয়ে যায়।’
‘তাই নাকি?’
‘জ্বি। নতুন এসেছেন তো! কয়েক দিন যাক টের পাবেন। বাড়িঅলাকে বলেছিলাম গ্রিল দিতে। তা দেবে না। আপনার সঙ্গে দেখা হলে আপনিও বলবেন। সবাই মিলে চেপে ধরতে হবে।’
‘জ্বি, আমি বলব। আপনি কি চা খাবেন না কি এক কাপ?’
‘আরে না না! এই রাত আড়াইটার সময় চা খাব নাকি, কী যে বলেন! উঠি ভাই। কোনো অসুবিধা হলে ডাকবেন।’
ভদ্রলোক উঠে পড়লেন। রানু চাপা স্বরে বলল, ‘এই রাত-দুপুরে ভদ্রলোককে ডেকে আনলে কেন? কী মনে করলেন উনি!’
‘তুমি যা শুরু করেছিলে! ভয় পেয়েই ভদ্র লোককে ডাকলাম।’
‘কী করেছিলাম আমি?’
‘অনেক কান্ড করেছ। এখন তুমি কেমন, সেটা বল।’
‘ভালো।’
‘কী রকম ভালো?
‘বেশ ভালো।’
‘ভয় লাগছে না আর?’
‘নাহ।’
রানু বিছানা থেকে নেমে পড়ল। সে বেশ সহজ ও স্বাভাবিক। ভয়ের কোনো চিহ্নও নেই চোখে-মুখে। শাড়ি কোমরে জড়িয়ে ঘরের পানি সরাবার ব্যবসা করছে।
‘সকালে যা করার করবে। এখন এসব রাখ তো।’
‘ইস, কী অবস্থা হয়েছে দেখ না!’
‘হোক, এস তো এদিকে।’
রানু হাসি-হাসি মুখে এগিয়ে এল।
‘এখন আর তোমার ভয় লাগছে না?’
‘না।’
‘জানালার ওপাশে কে যেন দাঁড়িয়েছিল বলেছিলে?’
‘এখন কেউ নেই। আর থাকলেও কিছু যায় আসে না।’
আনিস দ্বিতীয় সিগারেটটা ধরাল। হালকা গলায় বলল, ‘এক কাপ চা করতে পারবে?’
‘চা, এত রাতে!’
‘এখন আর ঘুম আসবে না, কর দেখি এক কাপ।’
রানু চা বানাতে গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই পানি ফোটার শব্দ হলো। বাইরে বৃষ্টি হচ্ছে ঝমঝম করে। রানু একা-একা রান্নাঘরে। কে বলবে এই মেয়েটিই অল্প কিছুক্ষণ আগে ভয়ে অস্থির হয়ে গিয়েছিল! ছাদে আবার ঝুপঝুপ শব্দ হচ্ছে। এই বৃষ্টির মধ্যে বানর এসেছে নাকি? আনিস উঠে গিয়ে রান্না ঘরে উঁকি দিল। হালকা গলায় বলল, ছাদে বড় ধুপধাপ শব্দ হচ্ছে?’ রানু জবাব দিল না।