Popular Products

Recent Products

Showing posts with label বাংলা. Show all posts

ভাঙার গান কাজী নজরুল ইসলাম 'ভাঙার গান' ১৩৩১ শ্রাবণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার গ্রন্থখানি বাজেয়াফত করেন। 'ভাঙ...

Bhangar Gaan by Kazi Nazrul Islam

Bhangar Gaan by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99
ভাঙার গান
কাজী নজরুল ইসলাম

'ভাঙার গান' ১৩৩১ শ্রাবণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার গ্রন্থখানি বাজেয়াফত করেন।
'ভাঙার গান' শীর্ষক গানটি সম্বন্ধে জনাব মুজ্‌জফর আহমদ লিখিয়াছেন :

 "আমার সামনেই দাশ-পরিবারের শ্রীকুমাররঞ্জন দাশ 'বাঙ্গলার কথার জন্যে একটি কবিতা চাইতে এসেছিলেন। শ্রীযুক্তা বাসন্তী দেবী তাঁকে কবিতার জন্যে পাঠিয়েছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তখন জেলে।... অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নজরুল তখনই কবিতা লেখা শুরু ক'রে দিল। সুকুমাররঞ্জন আর আমি আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ পরে নজরুল আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তার সেই মুহূর্তে রচিত কবিতাটি আমাদের পড়ে শোনাতে লাগল।...নজরুল 'ভাঙার গান' লিখেছিল ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের কোনো এক তারিখে। 'ভাঙার গান' বাঙ্গালার কথা'য় ছাপা হয়েছিল।"


Bhangar Gaan by Kazi Nazrul Islam




বাসন্তিকা                                                                           কাজী নজরুল ইসলাম বাসন্তিকা একাঙ্ক নাটিকা    কুশীলব (পুরু...

Basantika by Kazi Nazrul Islam

Basantika by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99
বাসন্তিকা
                                                                          কাজী নজরুল ইসলাম


বাসন্তিকা
একাঙ্ক নাটিকা
  
কুশীলব
(পুরুষ)
 ফাল্গুনী   হৃদয়-রাজ্যের রাজা
  দখিন হাওয়া   ওই মন্ত্রী
কোকিল   ওই দূত
পঞ্চশর    ওই সেনাপতি
ভ্রমর, মৌমাছি, প্রজাপতি দোয়েল শ্যামা… বৈতালিক দল।
  
(নারী)
বাসন্তিকা    ফুলের দেশের রানি

 চৈতালি    রানির প্রিয় সহচরী




Basantika by Kazi Nazrul Islam




বাদল বরিষণে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যাথার দান   কাজী নজরুল ইসলাম  রচিত একটি গল্পগ্রন্থ।  ১৯২২  খৃষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই গ্রন্থে মোট ৬টি...

Badol Borishone by Kazi Nazrul Islam

Badol Borishone by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99

বাদল বরিষণে
কাজী নজরুল ইসলাম


ব্যাথার দান কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯২২ খৃষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই গ্রন্থে মোট ৬টি গল্প আছে। এটি নজরুলের প্রথম প্রকাশিত গ্রন্থ। এই গ্রন্থের গল্পগুলোর ভাষা আবেগাশ্রয়ী, বক্তব্য নরনারীর প্রেমকেন্দ্রিক।

ব্যাথার দান
হেনা
বাদল বরিষণে
ঘুমের ঘোরে
অতৃপ্ত কামনা
রাজ-বন্দীর চিঠি


Badol Borishone by Kazi Nazrul Islam






বাঁধন হারা কাজী নজরুল ইসলাম বাঁধন হারা  বাংলাদেশের জাতীয় কবি  কাজী নজরুল ইসলাম  রচিত একটি  পত্রোপন্যাস । বাঁধন হারা নজরুল রচিত প্রথম উপন্যা...

Badhan Hara by Kazi Nazrul Islam

Badhan Hara by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99
বাঁধন হারা
কাজী নজরুল ইসলাম


বাঁধন হারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি পত্রোপন্যাস। বাঁধন হারা নজরুল রচিত প্রথম উপন্যাস। করাচিতে থাকাকালীন তিনি 'বাঁধন হারা' উপন্যাস রচনা শুরু করেন। মোসলেম ভারত পত্রিকায় বাঁধন হারা-র প্রথম কিস্তি এবং ১৯২১ সালে (১৩২৭ বঙ্গাব্দ) ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত হয়। ১৯২৭ সালে জুন মাসে (শ্রাবণ, ১৩৩৪ বঙ্গাব্দ) এটি প্রথম গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়।

নুরু মাহবুবা একে অন্যকে পছন্দ করে এবং তাদের বিয়ে তোড়জোড় শুরু হয়। এই সময়ে নুরু বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে সেনাবাহিনীতে যোগদান করে। নুরুর সেনাবাহিনীতে যোগদানের পিছনে দেশ ও জাতিকে রক্ষার কোন তাগিদ ছিল না। মাহবুবা, রাবেয়া ও সাহসিকা বাল্যসখী ও তাদের মধ্যে পত্র যোগাযোগ হয়। সাহসিকা তার নামের মতই সাহসী ও প্রতিবাদী। চিরকুমারী সাহসিকা নারীদের উপর অন্যায়ের প্রতিবাদ করে।

Badhan Hara by Kazi Nazrul Islam




আজ হিমুর বিয়ে   হুমায়ূন আহমেদ হিমুর খালা মাজেদা বেগম হিমুর বিয়ে ঠিক করেছেন। পাত্রীর নাম রেণু। কিন্তু হিমু তো বিয়ে করবে না। বাবার আদেশ বলে কথ...

Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed

Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed

বাংলা

8 10 99
আজ হিমুর বিয়ে
 হুমায়ূন আহমেদ



হিমুর খালা মাজেদা বেগম হিমুর বিয়ে ঠিক করেছেন। পাত্রীর নাম রেণু। কিন্তু হিমু তো বিয়ে করবে না। বাবার আদেশ বলে কথা। হিমুদের কখনো প্রেমে পড়তে হয় না, বিয়ে করতে হয় না, তাদের লক্ষ্য মহাপুরুষ হওয়া- অসংখ্য নিয়মকানুন আছে মেনে চলতে হয় হিমুদের। মাজেদা খালাও এসব জানেন। আর তাই তিনি জোর করেই হিমুকে বিয়ে দিতে চান রেণুর সাথে। কিন্তু রেণু পচ্ছন্দ করে অন্য এক ছেলেকে। ছেলেটির নাম তূর্য। তূর্য ছেলেটি এডিক্টেড। রেণুর বাবা হিমুর খালুর বন্ধু। রেণুর বাবা একজন আমেরিকান আর মা বাংলাদেশী। রেণুর বাবা-মায়ের বহু আগেই ছাড়াছাড়ি হয়ে গেছে। আর এই ছাড়াছাড়ির পেছনে রেণু তার মাকে দায়ী করে। যাই হোক, রেণু কোনভাবেই হিমুকে বিয়ে করতে চায় না। সে চায় তূর্যকে বিয়ে করতে। কিন্তু তূর্যকে পুলিশ হাজতে ধরে নিয়ে গেছে। আবার হিমুর খালুও চায় না রেণুর সাথে হিমুর বিয়ে হোক। কারণ হিমুর খালু হিমুকে সহ্য করতে পারেন না। কিন্তু মাজেদা খালা হিমুকে এতো বেশি পচ্ছন্দ করেন আর স্ত্রীর ভয়ে খালু হিমুকে কিছু বলতে গিয়েও বলতে পারে না। হিমু নিজেও এই বিয়েতে রাজি না। কিন্তু খালাকে এসব বলে কোন লাভ নেই। তাই ঠিক করে হিমু পালাবে এই বাসা থেকে। খালুর গাড়ি নিয়ে বের হয় হিমু। খালাকে বলে যায় রেণুর শাড়ি কিনার কথা। তারপর...? তারপর কি হিমু সত্যিই পালায় নাকি আবার ফিরে আসে রেণুর কাছে? সেইসব মজার ঘটনা নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদের "আজ হিমুর বিয়ে"!



Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed



                                                                      অচিনপুর                                                             ...

Achinpur by Humayun Ahmed

Achinpur by Humayun Ahmed

বাংলা

8 10 99
                                                                      অচিনপুর
                                                                       হুমায়ূন আহমেদ


হুমায়ূন আহমেদ সচরাচর যে ধরনের উপন্যাস লেখেন ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি সে ধাঁচের নয়। এটা গতানুগতিক ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি উপন্যাস। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি গঠনগত বৈশিষ্ট্যে যেমন অনন্য, তেমনি বিষয়গত বৈচিত্র্যেও স্বতন্ত্র। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের বেশিরভাগ লেখকের মতই সাধারণত তৃতীয় পুরুষে উপন্যাস লিখে থাকেন। কিন্তু ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি লেখা হয়েছে প্রথম পুরুষে। অর্থাৎ, গল্পকথক নিজেই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। এখানে গল্পকথক মূলত তার শৈশব জীবনের নানা সুখ-দুঃখের ঘটনার কথা খুব সাবলীল এবং নির্লিপ্তভাবে বর্ণনা করে গেছেন। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে প্রথম পুরুষে বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক এতটাই মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যে, উপন্যাসের শুরুতে কিছুক্ষণ এই বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনী ভেবে ভুল করাও অস্বাভাবিক না। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে গল্পকথকের নাম রঞ্জু। রঞ্জুর যখন তিন মাস বয়স তখন তার মা, রঞ্জু আর তার বোনকে নিয়ে অসহায়ের মত একদিন বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে রঞ্জু নানার বাড়িতেই বড় হয়েছে। কিন্তু রঞ্জু বরাবরই খুব ভাগ্যহত। তাই খুব অল্প বয়সে সে তার মাকেও হারায়। তখন নানার বাড়িতে রঞ্জুর আপনজন বলতে বোন ছাড়া আর কেউ থাকলো না। সেই বোনেরও একদিন বিয়ে হয়ে গেল। তারপর বোন অনেক দূরে চলে গেল। তার আর কোন খোঁজ-খবর নাই। রঞ্জুর নানা অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু তারপরও সেই যৌথ পরিবারে রঞ্জু বলতে গেলে অবাঞ্ছিতের মতই বড় হতে লাগলো। এরপর পাঠক ধীরে ধীরে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে রঞ্জুর নানাবাড়ির বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচিত হবেন। এখানে রঞ্জুর ছেলেবেলার সাথী, তার লাজুক ভীতু নবু মামার কথা উঠে আসবে। তার খেয়ালী বাদশা মামার কথা উঠে আসবে। সেই বাদশাহ মামার অসাধারণ সুন্দরী, লাল টুকটুকে বউ এলাচির কথা উঠে আসবে। এলাচিকে রঞ্জু লাল মামী আর নবু মামা লাল ভাবী বলে ডাকতো। বাদশাহ মামার বিয়ের পর রঞ্জু আর নবু মামার মধ্যে সারাদিনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলতো, লাল মামীকে কে বেশি খুশি করতে পারে তা নিয়ে। এরপর নবু মামা একদিন পড়াশোনার জন্যে রাজশাহী চলে গেল। নবু মামা রাজশাহী চলে যাবার পর রঞ্জুর সফুরা খালার চরিত্রটি উপন্যাসে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সফুরা খালা রঞ্জুর চেয়ে এক বছরের বড়। খুব লাজুক মেয়ে, সারাদিন একা একা খেলাধুলা করে। কখনও আবার সন্ধ্যার সময় একা একা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। রঞ্জুর ছোটবেলা থেকেই খুব শখ সফুরা খালার সাথে ভাব করার। নবু মামা চলে যাবার পর একসময় তার সফুরা খালার সাথে মোটামুটি ভাব হয়ে যায়। এদিকে নবু মামা এনট্রান্স পাশ করে যখন ফিরে আসলো তখন সে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্র। সে আর কাউকেই পরোয়া করে না। কিন্তু তার সেই ছোটবেলার লাল মামীর প্রতি ভালোবাসা তখনই একই রকম রয়ে গেছে। বরং তাতে আরও মাদকতা, আরও উন্মাদনা যুক্ত হয়েছে। তারপর এক প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির রাতে দেখা যায়, নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে ঘরের দরোজা-জানালা লাগিয়ে দিয়ে গান শুনছে। কিন্তু একসময় সে গানও থেমে যায়। তাও নবু মামা আর তার ঘরে ফিরে আসে না। এ সময় বাদশাহ মামা বাড়ির বাহিরে ছিল। ঠিক সে সময়, সফুরা খালা নবু মামার খোঁজে রঞ্জুর কাছে আসে। কিন্তু নবু মামা, লাল ভাবীর সাথে শুনে সফুরা খালা বিদ্যুৎপৃষ্ঠের মত সে রাতে চলে গিয়েছিলো। রঞ্জুর বালক-মন তখন অত কিছু বুঝতে পারে নি। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেখা গেল নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। তারপর একদিন, রঞ্জুর বোন লিলি রঞ্জুকে তার কাছে নিয়ে যাবার জন্যে চিঠি লিখলো। রঞ্জু তার ছেলেবেলার সমস্ত বন্ধন, আজন্ম স্মৃতিবিজড়িত নানার বাড়ি ছেড়ে এক অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে থাকলো। রঞ্জু অনুধাবন করলো, এতদিন সে যাদের আনন্দে আনন্দিত হয়েছে, যাদের দুঃখে দুঃখী হয়েছে তারা আসলে তার কেউ না। এ সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে, সব টান পিছে ফেলে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের বর্ণনা শক্তির অসাধারণ পরিচয় পাওয়া যায়। হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত সংলাপ নির্ভর উপন্যাস লিখেন। কিন্তু এই উপন্যাসটি বর্ণনা নির্ভর। আর সে বর্ণনার ভঙ্গি এতটাই নির্মোহ যে, যখন তিনি গল্পের মধ্যে ফ্রয়েডীয় কামের ব্যাপার তুলে আনলেন তখনও পাঠক বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। বরং পাঠকের মনে হবে এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। এই উপন্যাসে লেখক খুব সাবধানতার সাথে গ্রাম-বাংলার জীবনের প্রতিটি দিক ছুঁয়ে গিয়েছেন। এখানে গ্রামীণ জীবনে জীন-পরীর ব্যাপারগুলোকে কীভাবে দেখা হয় তা যেমন গল্পের অংশ হয়ে উঠে এসেছে, আবার পীর-ফকির বা বাণ মারার প্রসঙ্গও বাদ যায় নি। আবার গ্রামীণ প্রভাবশালী মানুষের অহংকার বোধ যেভাবে বিনয়ের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেত তা রঞ্জুর নানার চরিত্রটির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আর প্রতিটি দৃশ্যের বর্ণনা লেখক এত নিখুঁত আর বিস্তৃতভাবে দিয়েছেন যে, পাঠকমাত্রই চোখের সামনে ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন। উপন্যাসের একদম শেষে দেখানো হয়, লাল মামী সব হারিয়ে একটি শিশু কন্যাকে নিয়ে আবার সেই বাড়িতেই ফিরে এসেছে। যে বাড়িতে বহু বছর আগে, ঠিক এরকমই নিঃস্ব অবস্থায় দু’সন্তানকে নিয়ে রঞ্জুর মা এসেছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে যেন, লেখক একটি চক্র সম্পন্ন করলেন। আমাদের বাংলার আনাচে-কানাচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, শত-সহস্র পরিবারে যে চক্র নিয়ত চলমান আছে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এই মাপের একটি সৃষ্টিই একজন সাহিত্যিককে অমর করে রাখার জন্যে যথেষ্ট। এই উপন্যাসটি তার সময়ের সীমাকে অতিক্রম করেছে। এমনকি এই উপন্যাসের কিছু কিছু বিষয় শুধু বাঙালি জাতি বা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং যে কোন সমাজের জন্যেই সমানভাবে সত্য। ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রথম পুরুষে লেখা উপন্যাস সব সময়ই পছন্দের। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের উপন্যাস খুব কমই পাওয়া যায়। ‘অচিনপুর’ নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এই ঘরানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। মহৎ সাহিত্যের রসাস্বাদনে আগ্রহী সকল পাঠকের জন্যেই এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।






Achinpur by Humayun Ahmed





আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ                                                                                 হুমায়ূন আহমেদ ১৩টি ছোটগলপের সংকলন।...

Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed

Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed

বাংলা

8 10 99
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ
                                                                               হুমায়ূন আহমেদ




১৩টি ছোটগলপের সংকলন।

* মিস মনোয়ারা
* কাকারু
* পঙগু হামিদ
* ফোরটি নাইন
* সগিরন বুয়া
* নয়া রিকশা
* আজ দুপুরে তোমার নিমনতরণ
* আনোভা
* তিনি
* আলাউদদিনের ফাঁসি
* ভালোবাসা
* টিকটিকি
* ভূ

শারমিনের এই রকম পরিণতিতে আমার আক্ষেপ বেশী ইমনের জন্য। আর মিস মনোয়ারা হচ্ছে সমসাময়িক মানুষরূপী নিকৃষ্ট সুবিধাবাদিদের পরিচয় বহন করে। আর মেয়ে সুমির জন্য আশরাফুদ্দিনদের এই শূন্যতা চিরায়ত।এইদিকে পঙ্গু হামিদ তো সমসাময়িক আসল আর নকল মুক্তিযোদ্ধার দলাদলির প্রতি ইঙ্গিত দেয়।আর এর পরিণতি যে আমাদের জন্য কতটা নির্মম হতে পারে হামিদের কাপুরুষতা তারই প্রমাণ।



Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed


আজ চিত্রার বিয়ে                                                                     হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ে...

Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed

Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed

বাংলা

8 10 99
আজ চিত্রার বিয়ে
                                                                    হুমায়ূন আহমেদ

উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ের নাম শায়লা বানু, বাবা চৌধুরী খলিলুর রহমান সাহেব আর চিত্রার ছোট বোনের নাম মীরা।

চিত্রার বাবা খলিলুর রহমান সাহেব ছোটখাটো একটা চাকরি করেন। তিনি মোটেও একজন সংসারী মানুষ না। সংসার নিয়ে তার চিন্তাভাবনা খুব কম বলেই শায়লা বানু মানে চিত্রার মাকে সবকিছু সামাল দিতে হয়। শায়লা বানু একটা এনজিওতে চাকরিও করেন সংসারের আর্থিক সুবিধার জন্য। এমনকি চিত্রার বিয়ের ব্যাপারেও তার বাবার কোন চিন্তা নেই। চিত্রার মা তার বোনের সহায়তায় ছেলে খুজেঁ চিত্রার জন্য।
শেষমেশ চিত্রার বিয়ে ঠিক হলো এক মেরিন ইঞ্জিনিয়ার ছেলের সাথে। এদিকে চিত্রার ছোট বোন মীরা কারো সাথে ইদানিং ফোনে খুব কথা বলে। শায়লা বানুর ধারণা ফোনের অপর প্রান্তের ছেলেটার নাম বাড়ির ভাড়াটে নিজাম সাহেবের ভাইপো মজনু। কিন্তু মজনুর ঘর নাই, বাড়ি নাই, থাকার জায়গা নাই; তাকে কি করে মীরা পচ্ছন্দ করে? শায়লা বানুর মাথায় এটা আসে না!
খলিলুর রহমান সাহেবের একমাত্র ছোট বোন ফরিদা। তার স্বামী জহিরউদ্দীন। অভাবের তাড়নায় ফরিদার চুরির অভ্যাস হয়ে গেছে। শায়লা বানু ফরিদাকে একদমই সহ্য করতে পারে না। সে চায়ও না ফরিদার চিত্রার বিয়েতে থাকুক। এদিকে চিত্রার বিয়ের দ দিনই ফরিদার স্বামী তাকে ঘর থেকে বের করে দিয়েছে। আবার ভাইয়ের বাসায় এসে থাকার উপায় নেই ফরিদার।

সবমিলিয়ে এক বিচ্ছিরি অবস্থা! এরই মাঝে ঘটে গেলো এক ভয়াবহ দূর্ঘটনা। চিত্রার বিয়ের দিনের সেই সব কাহিনী নিয়েই লেখা হুমায়ূন আহমেদের “আজ চিত্রার বিয়ে”!



Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed



আজ আমি কোথাও যাবো না                                                            হুমায়ূন আহমেদ জয়নাল দু’বার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে- দু’...

Aaj Ami Kothao Jabo Na by Humayun Ahmed

Aaj Ami Kothao Jabo Na by Humayun Ahmed

বাংলা

8 10 99
আজ আমি কোথাও যাবো না
                                                           হুমায়ূন আহমেদ



জয়নাল দু’বার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে- দু’বারই ধরা খেয়েছে।
নকলের খুব সুবিধা ছিল। শিক্ষকরাও নকল সাপ্লাই-এ সাহায্য করেছেন,
তাতেও লাভ হয়নি।
এই জয়নাল ছোট মানুষ হয়েও অনেক বড় স্বপ্ন দেখে। 

শামসুদ্দিন সাহেব নান্দাইল হাইস্কুলের অবসরপ্রাপ্ত ইংরেজি শিক্ষক।
সারা জীবনে একটি ও মিথ্যা কথা বলেন নি। কোনো মন্দ কথা বলেন নি।
তিনি অনেক বড় মানুষ হয়েও ছোট স্বপ্ন দেখেন।

স্বপ্ন দেখে রাহেলা ও ইতি। একেক জনের স্বপ্ন
একেক রকম।

‘আজ আমি কোথাও যাব না’ কিছু মানুষের স্বপ্ন ও 
স্বপ্নভঙ্গের গল্প।









আলেয়া                                                                        কাজী নজরুল ইসলাম আলেয়া   কাজী নজরুল ইসলাম   রচিত দ্বিতীয় নাটক...

Aleya by Kazi Nazrul Islam

Aleya by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99
আলেয়া
                                                                       কাজী নজরুল ইসলাম


আলেয়া কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক। এটি ১৯৩১ সালে প্রকাশিত হয়। ত্রিভুজ প্রেম ও তার পরিণয় এই নাটকের প্রধান বিষয়বস্তু। নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্র জয়ন্তীর প্রেমের ব্যাকুলতা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং আবেগের তীব্রতা নাটকটিকে ট্র্যাজিক পরিণয়ের দিকে নিয়ে গেছে।রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের মায়ার খেলা নাটকের সাথে এর বিষয়বস্তুর মিল থাকলেও নজরুল গল্পের জটিলতা ও নাট্যের তীব্র গতি দিয়ে একে স্বতন্ত্র করে তুলেছেন।







অগ্নী-বীণা কাজী নজরুল ইসলাম অগ্নিবীণা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩২৯ বঙ...

Agni Bina by Kazi Nazrul Islam

Agni Bina by Kazi Nazrul Islam

বাংলা

8 10 99
অগ্নী-বীণা
কাজী নজরুল ইসলাম

অগ্নিবীণা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩২৯ বঙ্গাব্দের কার্তিক মাসে (অক্টোবর, ১৯২২ খ্রিস্টাব্দ) প্রকাশিত হয়। এই গ্রন্থে মোট বারোটি কবিতা আছে। কবিতাগুলি হচ্ছে - 
‘প্রলয়োল্লাস (কবিতা)’, 
‘বিদ্রোহী’, 
‘রক্তাম্বর-ধারিণী মা’, 
‘আগমণী’,
 ‘ধূমকেতু’, 
কামাল পাশা’,
 ‘আনোয়ার 
‘রণভেরী’, 
‘শাত-ইল-আরব’, 
খেয়াপারের তরণী’, 
কোরবানী’ 
ও মোহররম’।
 এছাড়া গ্রন্থটির সর্বাগ্রে বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ-কে উৎসর্গ করে লেখা একটি উৎসর্গ কবিতাও আছে। ‘অগ্নি-বীণা’ প্রচ্ছদপটের পরিকল্পনা ছিল অবনীন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং এঁকেছিলেন তরুণ চিত্রশিল্পী বীরেশ্বর সেন। বইটির তৎকালীন মূল্য ছিল ৩ টাকা। ৭ নং প্রতাপ চ্যাটার্জি লেন থেকে গ্রন্থকার কর্তৃক গ্রন্থটি মুদ্রিত ও প্রকাশিত হয়। প্রাপ্তিস্থান হিসেবে গ্রন্থে লেখা ছিল: 'আর্য পাবলিশিং হাউস, কলেজ স্ট্রিট, মার্কেট (দোতলায়)'। গ্রন্থটি ছাপা হয় মেটকাফ প্রেস, ৭৯ নং বলরাম দে স্ট্রিট, কলিকাতা থেকে। দাম এক টাকা। গ্রন্থটির উৎসর্গ হচ্ছে- “বাঙলার অগ্নিযুগের আদি পুরোহিত সাগ্নিক বীর শ্রীবারীন্দ্রকুমার ঘোষ শ্রীশ্রীচরণারবিন্দেষু”। নিচে লেখা আছে “তোমার অগ্নি-পূজারী -হে- মহিমাম্বিত শিষ্য-কাজী নজরুল ইসলাম”। অরবিন্দ ঘোষের ভ্রাতা বারীন্দ্রকুমার ঘোষ বাংলা তথা ভারতের বিপ্লববাদী আন্দোলনের অন্যতম নায়ক ছিলেন। বিপ্লবে বিশ্বাসী নজরুল তাই নিজেকে বারীন্দ্রকুমারের ‘-হে-মহিমান্বিত শিষ্য’ বলে উল্লেখ করে তাঁকেই তাঁর প্রথম কাব্যগ্রন্থ উৎসর্গ করেছিলেন।








আর কত দিন জহির রায়হান জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস এই "আর কতদিন "। আকারে ছোটগল্পের থেকে খানিকটা বড় হলেও এর বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে গেছ...

Ar Koto Din by Zahir Raihan

Ar Koto Din by Zahir Raihan

বাংলা

8 10 99
আর কত দিন
জহির রায়হান


জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস এই "আর কতদিন "। আকারে ছোটগল্পের থেকে খানিকটা বড় হলেও এর বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে গেছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দেশ আর কালের সীমানা। পুরো উপন্যাস জুড়েই লেখক গণহত্যা আর মানবতা লঘ্ননের কথা বলেছেন ছোট ছোট বাক্য আর নাতিদীর্ঘ চিত্রকল্পের গাঁথুনিতে..!! কিন্তু কি আশ্চর্যরকম ধারই না তাতে..!!
লেখক দেখিয়েছেন কি করে ছেলে, বুড়ো, মেয়ে, শিশু, যুবক, যুবতী সকলেই প্রাণভয়ে আজস্র মৃতদেহ ডিঙিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে আর তাদের তাড়া করে ফিরছে কি না আমাদের মতই এক দল। তাদের অবস্থান যেমন ভিয়েতনামে তেমনি ইন্দোনেশিয়ায়, জেরুজালেমে যেমন, সাইপ্রাসেও তেমন। তারা রয়েছে ভারতে, পাকিস্তানে, হিরোশিমায়, বুখেনওয়ান্ডে.... তিনি নির্দিষ্ট কোনো গল্প বলেন নি। বরং তার লেখনীতে উঠে এসেছে সৃষ্টির আদি থেকে যত গণহত্যা ঘটেছে এবং যত ঘটবে তার চিত্র। তাই বুঝি তার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর আলাদা করে সেরকম নাম নেই। কেননা লেখক যে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো চরিত্রের নয়, একেবারেই সাধারণ মানুষের গল্প বলতে চেয়েছেন যাদের ভিড়ের মাঝে আলাদা করা যায় না, যাদের পরিচয় তাদের সম্মিলিত সত্ত্বায়...! যদিও ঘুরে ফিরে তপু আর ইভা এই নাম দু'টি এসেছে... বার কয়েক এসেছে বুড়িমা আর তার তিন ছেলের কথা। কিন্তু তবুও "আর কতদিন" ঠিক তাদের গল্প হয়ে ওঠে নি।
কেবল পালিয়ে বেড়ানো নয়, লেখক সেই সাথে দেখিয়েছেন রক্ষকও কি করে ঘাতক হয়ে ওঠে। এ সব কিছুর মাঝেও কান পাতলে শোনা যায় মানবতার গান।"মরতে হলে বিশ্বাস করেই মরবো" এ তো কেবল "মানুষের" পক্ষেই বলা সম্ভব..!! এই উক্তি কেন জানি মনে করিয়ে দেয় আনা ফ্রাংকের কথা " I still believe that people are really good at heart"..!! অদ্ভুত একটা যোগসূত্র পাই...!!
স্টপ জেনোসাইডের নির্মাতার কাছে থেকে এই তো আশা করার..!!






হাজার বছর ধরে        জহির রায়হান নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা...

Hazar Bochor Dhore by Zahir Raihan

Hazar Bochor Dhore by Zahir Raihan

বাংলা

8 10 99

হাজার বছর ধরে

       জহির রায়হান

নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা বয়ে চলেছে, তাতে আশা-নিরাশা, প্রেম-ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়ার খেলা চললেও তা সহজে চোখে পড়ে না, অন্ধকারে ঢাকা থাকে। কঠিন অচলায়তন সমাজে আর যাই থাকুক, নারীর কোন অধিকার নাই। নারী হাতের পুতুল মাত্র। পুরুষ তাকে যেমন নাচায় তেমন নাচে। নিজের ইচ্ছেতে কাউকে বিয়ে করাটা এমন সমাজে অপরাধ, গুরুতর অপরাধ। অন্ধকার এই সমাজে আনাচে কানাচে বাস করে কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন। পরীর দীঘির পাড়ের একটি গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাহিনী। কখন এই গ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল কেউ বলতে পারে না। এক বন্যায় “কাশেম শিকদার” আর তার বউ “ছমিরন বিবি” বানের পানিতে ভেলায় ভাসতে ভাসতে এসে ঠাঁই নিয়েছিল এই জায়গায়। সেই থেকে এখানে পত্তন হয়েছে শিকদার বাড়ির।
শিকদার বাড়িতে বাস করে বৃদ্ধ “মকবুল” ও তার তিন স্ত্রী সহ “আবুল”, “রশিদ”, “ফকিরের মা” ও “মন্তু” এবং আরো অনেকে। বৃদ্ধ মকবুলের চতুর্দশবর্ষী বউ টুনির মনটা মকবুলের শাসন মানতে চায় না। সে চায় খোলা আকাশের নিচে বেড়াতে, হাসতে, খেলতে। তাই সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় অল্প বয়সী সুঠামদেহী মন্তুকে। মন্তু বাবা-মা হারা, অনাথ। বিভিন্ন কাজ করে বেড়ায়। টুনি আর মন্ত সকলের অগোচরে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ে মাছ ধরতে। বর্ষায় যায় শাপলা তুলতে। এমনি করে দুজন দুজনার কাছে এসে যায়। অব্যক্ত ভালবাসার জোয়ারে ভাসে ওরা দু’জন। কিন্ত কেউ মুখ ফুঁটে বলতে পারেনা মনের কথা, লোক লজ্জার ভয়ে। সমাজের রক্ত চক্ষু ওদের দূরে রাখে।
গ্রাম-বাংলায় যা হয়, কলেরা বসন্তের বাতাস লাগলে উজাড় হয়ে যায় কয়েক ঘর মানুষ। ডাক্তার না দেখিয়ে তারা টুকটাক তাবিজ করে, এভাবেই দিন চলে। মকবুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর মন্তু যখন মনের কথা টুনিকে খুলে বলে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। গনু মোল্লা, আম্বিয়া, রশিদ, ফকিরের মা, সালেহা কেউই নেই। টুনির সঙ্গে মন্তুর অনেক দিন দেখা হয়নি। টুনি হারিয়ে গেছে ওর জীবন থেকে। তবুও টুনিকে মাঝে মাঝে মনে পড়ে মন্তুর। এমনি করে অনেকটা সময় পার হয়েছে। রাতের বেলা সুরত আলীর ছেলে ওর বাপের মতোই পুঁথি করে- “শোন শোন বন্ধুগনে শোন দিয়া মন, ভেলুয়ার কথা কিছু শান সর্বজন।” ভেলুয়া সুন্দরীর কথা সবাই শানে। একই তালে, একই সুরে হাজার বছরের অন্ধকার এক ইতিহাস নিয়ে এগিয়ে চলে সবাই। হাজার বছরের পুরনো জোৎস্না ভরা রাতে একই পুঁথির সুর ভেসে বেড়ায় বাতাসে।
কালের আবর্তে সময় গড়ায়। প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। শুধু পরিবর্তন আসেনা অন্ধকার, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রাম বাংলার আচলায়াতন সমাজে।





                                                                  তৃষ্ণা                                                                    ...

Trishna By Zahir Raihan

Trishna By Zahir Raihan

বাংলা

8 10 99
                                                                  তৃষ্ণা
                                                                    
                                                                                জহির রায়হান



এই উপন্যাসে লেখক সমাজের কয়েকটি খারাপ দিকের কথা তুলে ধরবার চেষ্টা করেছেন। এই যেমন পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক, দেহ ব্যবসা ইত্যাদি ইত্যাদি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম শওকত। একজন বেকার মানুষ। এবং সেই সাথে তার কাপুরুষতার লক্ষন সুস্পষ্ট। সে একটি ঘন বসতি সম্পন্ন এলাকায় থাকে। তিনি সেখানে "মার্থা" নামের এক বিবাহিত মহিলার সাথে পরিচিত হয়। যদিও মার্থা শওকত এর পূর্বপরিচিত। তাদের সম্পর্ক গাড় হতে হতে পরকীয়ার রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা দুজনেই স্বপ্নের জাল বুনতে আরম্ভ করে। তাদের একটি সংসার হবে, একটা ছোট্ট বাড়ি থাকবে, একটা ছোট্টও দোকানও থাকবে, তাদের কোল জুড়ে থাকবে একটি ফুটফুটে শিশু। এই জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে টাকা আয় করার জন্যে। হোক সেটা সৎ পথে, কিংবা অসৎ পথে। মার্থা তার এই অবৈধ ভালবাসার জন্যে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। মার্থা আর শওকত একই এলাকার বাসিন্দা। খুব কাছাকাছিই তাদের বাসা। তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন নর্তকী সেলিনা, বউ পেটানো কেরানী, কিছু জুয়াখেলোয়ার অন্যতম। এছাড়াও আরও একটি বিশেষ চরিত্র উপন্যাসে দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম "বুড়ো আহমদ হোসেন"। আমার কাছে এই মানুষকে এক রহস্য বলেই মনে হয়েছে। তবে গুরত্তপুর্ন ব্যাপারটি হল, লেখক এই বুড়ো মানুষের মাধ্যমেই সমাজের অনেক অনৈতিক বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন। 
কাহিনি শেষের দিকে মার্থা টাকার আয় বাড়ানোর জন্য তার দোকান থেকে ঔষধ অসাধু উপায়ে বিক্রি করতে থাকে। যার ফলস্বরূপ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু শওকত এর অনুভূতি ছিল এই ব্যাপারে ভাবলেশহীন। সে বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেনি মার্থাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়াবার জন্যে। বরং শওকত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলো। একদম শেষাংশে একটি অকল্পনীয় ঘটনা লক্ষ করা যায় শওকত এর। তিনি হটাত করে কেরানীর ঘড়ে গিয়ে, দা দিয়ে এক কোপে কেরানীর মাথা কেটে ফেলেন। কেরানী খুন হয় শওকতের হাতে। খুব সম্ভব মার্থার গ্রেপ্তার হবার পেছনে কেরানীর হাত ছিল। খুন করে ছুটে পালিয়ে যাবার সময় শওকত দেখতে পায় নর্তকী সেলিনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কীর্তিকলাপ দেখছে। নিজেকে গা ঢাকা দেবার জন্য শওকত যখন ছুটে পালাচ্ছিল, তখন শুধু যাবার সময় সেলিনার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল। সেলিনাও তাকে বাঁধা দেবার কোন চেষ্টা করল না। দৌড়ুতে থাকা শওকত এর সঙ্গি হল সেলিনা।







                                             Download or Read Online

শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হান আপনার জীবনে অনেক মেয়েই আসতে পারে যারা নিজেদের রঙে আপনার শেষ বিকেলকে তাদের মত রাঙিয়ে দেবে। কিন্তু দিনশেষে শেষ বি...

Shesh Bikeler Meye by Zahir Raihan

Shesh Bikeler Meye by Zahir Raihan

বাংলা

8 10 99



শেষ বিকেলের মেয়ে
জহির রায়হান

আপনার জীবনে অনেক মেয়েই আসতে পারে যারা নিজেদের রঙে আপনার শেষ বিকেলকে তাদের মত রাঙিয়ে দেবে। কিন্তু দিনশেষে শেষ বিকেলের মেয়ে তাকেই বলতে হয় যে দিনশেষে আপনার আশ্রয় হয়।

ষাটের দশক, পূর্ববঙ্গে কেরানি তথা মধ্যবিত্ত জীবন তখন জীবন সংগ্রামের অধুনা রূপটি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। স্বপ্ন তখন সংগ্রামের শর্ত। উপন্যাসটি ঠিক এই প্রেক্ষাপটে তরুণ কেরানি কাসেদের গল্প বলে যার কাছে স্বপ্নটা তখনো সংগ্রাম থেকে দূরে বা স্বপ্নকে সংগ্রামের গ্রাস থেকে বাঁচাতে যে তখনো নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

গল্প-বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু যদি কাসেদ হয়, তাহলে গল্পের পরিধি হচ্ছে কাসেদকে ঘিরে উঠে আসা পাঁচজন মেয়ে। এদের একজন জাহানারা, যে দেখে একদিকে যেমন একঘেয়ে যান্ত্রিকতার ভীড়ে একমাত্র কাসেদের মত মধ্যবিত্তরাই তাকে স্বপ্নে স্থান দিতে পারে; অপরদিকে তেমন মধ্যবিত্তসত্ত্বার বাইরে এসে কাসেদরা কখনোই উচ্চবিত্তের জাহানারাদের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। তাই দিনশেষে কারো প্রেয়সী নয়, বরং তার নিজের মত উচ্চবিত্ত কারো ঘরের পুতুল হওয়ার প্রস্তুতিই তাকে নিতে হয়।
অপরজন সালমা, কাসেদের খালাতো বোন; সালমা সেই কৈশোর থেকে কাসেদকে ভালোবেসে আসলেও কাসেদ কখনো পারেনি বাবাহারা পরিবারের বোঝা অপেক্ষা সালমার প্রেমকে বড় করে দেখতে। ফলে একসময় সালমার বিয়ে হয়ে যায় বড় চাকুরে কোন ছেলের সাথে এবং সেই সংসারের শো-পিস হয়ে থাকতে হয় সালমাকে। তবে বিয়ের পরও নিজের শো-পিস সত্ত্বার বাইরে এসে সালমা যখন কারো ভালোবাসা পাওয়ার তৃষ্ণায় কাতর হয়েছে, তখনো সে কাসেদ ছাড়া এই যান্ত্রিক সমাজে কাউকে খুঁজে পায়নি। কিন্তু কাসেদ নিজের মধ্যবিত্তসত্ত্বার সীমারেখা পার হয়ে তখনো সালমাকে তার প্রাপ্য ভালোবাসা দিতে পারেনি।
এরপর আসে কাসেদের সিনিয়র এক কলিগের মেয়ে, উপন্যাসে তার পরিচয় "কৃষ্ণবর্ণ মেয়েটি"। জাহানারার কাছে নিজের দুর্ভেদ্য প্রকাশ নিয়ে কাসেদ যখন ক্লান্ত, তখনই দৃশ্যপটে আসে মেয়েটি। কন্যাদায়গ্রস্ত কলিগের টানাটানির সংসারের এই মেয়েটি ক্লান্ত কাসেদের কল্পনা-পটে নির্মল ছায়া হয়ে হাজির হতে থাকে। কিন্তু অফিসের বড় সাহেবকে তার বিত্তশালী স্ত্রী ডিভোর্স দিলে সেও এই মেয়েটির মধ্যেই নিজের শেষ ঠিকানা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত অবধারিতভাবেই বড় সাহেবই জিতে নেয় সেই কৃষ্ণবর্ণা শীতল ছায়া-কন্যাকে। মধ্যবিত্ত মানুষিকতার বাধায় এখানেও অপ্রকাশিত থেকে যায় কাসেদ।
এরপর শিউলি, জাহানারার কাজিন। মেয়ে হিসেবে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা, স্বাধীনচেতা, কর্তৃত্বপরায়ণ। ছেলেদের সাথে শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্কে বিশ্বাসী এই মেয়েটি এক সময় কাসেদের উপর দুর্বল হলেও নিজের কৃর্তৃত্বসুলভ সত্ত্বা বজায় রাখতে সেও প্রত্যাখ্যান করে বসে কাসেদকে। আর সেটা এমন একটা সময়ে যখন জাহানারা, সালমা আর সেই কৃষ্ণবর্ণাকে হারিয়ে কাসেদ অনেকটা অসহায়!