Popular Products
Popular Products
Label
Recent
Author

Recent in Food
FlatBook
Lorem ipsum dolor sit amet, consectetur adipiscing elit. Vestibulum rhoncus vehicula tortor, vel cursus elit. Donec nec nisl felis. Pellentesque ultrices sem sit amet eros interdum, id elementum nisi ermentum.Vestibulum rhoncus vehicula tortor, vel cursus elit. Donec nec nisl felis. Pellentesque ultrices sem sit amet eros interdum, id elementum nisi fermentum.
soratemplate@gmail.com
Contact Us
Comments
Subscribe For Free E-book
Social Counter
Recent Products
ভাঙার গান কাজী নজরুল ইসলাম 'ভাঙার গান' ১৩৩১ শ্রাবণে গ্রন্থাকারে প্রকাশিত হয়। তৎকালীন বঙ্গীয় সরকার গ্রন্থখানি বাজেয়াফত করেন। 'ভাঙ...
Bhangar Gaan by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
| "আমার সামনেই দাশ-পরিবারের শ্রীকুমাররঞ্জন দাশ 'বাঙ্গলার কথার জন্যে একটি কবিতা চাইতে এসেছিলেন। শ্রীযুক্তা বাসন্তী দেবী তাঁকে কবিতার জন্যে পাঠিয়েছিলেন। দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাশ তখন জেলে।... অন্য দিকে মুখ ফিরিয়ে নজরুল তখনই কবিতা লেখা শুরু ক'রে দিল। সুকুমাররঞ্জন আর আমি আস্তে আস্তে কথা বলতে লাগলাম। বেশ কিছুক্ষণ পরে নজরুল আমাদের দিকে মুখ ফিরিয়ে তার সেই মুহূর্তে রচিত কবিতাটি আমাদের পড়ে শোনাতে লাগল।...নজরুল 'ভাঙার গান' লিখেছিল ১৯২১ সালের ডিসেম্বর মাসের কোনো এক তারিখে। 'ভাঙার গান' বাঙ্গালার কথা'য় ছাপা হয়েছিল।" |
বাসন্তিকা কাজী নজরুল ইসলাম বাসন্তিকা একাঙ্ক নাটিকা কুশীলব (পুরু...
Basantika by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
বাদল বরিষণে কাজী নজরুল ইসলাম ব্যাথার দান কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি গল্পগ্রন্থ। ১৯২২ খৃষ্টাব্দে প্রথম প্রকাশিত হওয়া এই গ্রন্থে মোট ৬টি...
Badol Borishone by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
হেনা
বাদল বরিষণে
ঘুমের ঘোরে
অতৃপ্ত কামনা
রাজ-বন্দীর চিঠি
![]() |
বাঁধন হারা কাজী নজরুল ইসলাম বাঁধন হারা বাংলাদেশের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম রচিত একটি পত্রোপন্যাস । বাঁধন হারা নজরুল রচিত প্রথম উপন্যা...
Badhan Hara by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
আজ হিমুর বিয়ে হুমায়ূন আহমেদ হিমুর খালা মাজেদা বেগম হিমুর বিয়ে ঠিক করেছেন। পাত্রীর নাম রেণু। কিন্তু হিমু তো বিয়ে করবে না। বাবার আদেশ বলে কথ...
Aaj Himur Biye by Humayun Ahmed
বাংলা
অচিনপুর ...
Achinpur by Humayun Ahmed
বাংলা
হুমায়ূন আহমেদ
হুমায়ূন আহমেদ সচরাচর যে ধরনের উপন্যাস লেখেন ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি সে ধাঁচের নয়। এটা গতানুগতিক ধারা থেকে সম্পূর্ণ আলাদা একটি উপন্যাস। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি গঠনগত বৈশিষ্ট্যে যেমন অনন্য, তেমনি বিষয়গত বৈচিত্র্যেও স্বতন্ত্র। হুমায়ূন আহমেদ বাংলাদেশের বেশিরভাগ লেখকের মতই সাধারণত তৃতীয় পুরুষে উপন্যাস লিখে থাকেন। কিন্তু ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি লেখা হয়েছে প্রথম পুরুষে। অর্থাৎ, গল্পকথক নিজেই উপন্যাসের প্রধান চরিত্র। এখানে গল্পকথক মূলত তার শৈশব জীবনের নানা সুখ-দুঃখের ঘটনার কথা খুব সাবলীল এবং নির্লিপ্তভাবে বর্ণনা করে গেছেন। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে প্রথম পুরুষে বর্ণনার ক্ষেত্রে লেখক এতটাই মুনশিয়ানা দেখিয়েছেন যে, উপন্যাসের শুরুতে কিছুক্ষণ এই বইটিকে হুমায়ূন আহমেদের আত্মজীবনী ভেবে ভুল করাও অস্বাভাবিক না। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে গল্পকথকের নাম রঞ্জু। রঞ্জুর যখন তিন মাস বয়স তখন তার মা, রঞ্জু আর তার বোনকে নিয়ে অসহায়ের মত একদিন বাপের বাড়িতে চলে এসেছিলেন। সেই থেকে রঞ্জু নানার বাড়িতেই বড় হয়েছে। কিন্তু রঞ্জু বরাবরই খুব ভাগ্যহত। তাই খুব অল্প বয়সে সে তার মাকেও হারায়। তখন নানার বাড়িতে রঞ্জুর আপনজন বলতে বোন ছাড়া আর কেউ থাকলো না। সেই বোনেরও একদিন বিয়ে হয়ে গেল। তারপর বোন অনেক দূরে চলে গেল। তার আর কোন খোঁজ-খবর নাই। রঞ্জুর নানা অঢেল সম্পত্তির মালিক ছিলেন। তার কোন কিছুরই অভাব ছিল না। কিন্তু তারপরও সেই যৌথ পরিবারে রঞ্জু বলতে গেলে অবাঞ্ছিতের মতই বড় হতে লাগলো। এরপর পাঠক ধীরে ধীরে বিভিন্ন ঘটনার মধ্যে দিয়ে রঞ্জুর নানাবাড়ির বিভিন্ন চরিত্রের সাথে পরিচিত হবেন। এখানে রঞ্জুর ছেলেবেলার সাথী, তার লাজুক ভীতু নবু মামার কথা উঠে আসবে। তার খেয়ালী বাদশা মামার কথা উঠে আসবে। সেই বাদশাহ মামার অসাধারণ সুন্দরী, লাল টুকটুকে বউ এলাচির কথা উঠে আসবে। এলাচিকে রঞ্জু লাল মামী আর নবু মামা লাল ভাবী বলে ডাকতো। বাদশাহ মামার বিয়ের পর রঞ্জু আর নবু মামার মধ্যে সারাদিনই এক ধরনের প্রতিযোগিতা চলতো, লাল মামীকে কে বেশি খুশি করতে পারে তা নিয়ে। এরপর নবু মামা একদিন পড়াশোনার জন্যে রাজশাহী চলে গেল। নবু মামা রাজশাহী চলে যাবার পর রঞ্জুর সফুরা খালার চরিত্রটি উপন্যাসে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সফুরা খালা রঞ্জুর চেয়ে এক বছরের বড়। খুব লাজুক মেয়ে, সারাদিন একা একা খেলাধুলা করে। কখনও আবার সন্ধ্যার সময় একা একা পুকুর পাড়ে গিয়ে বসে থাকে। রঞ্জুর ছোটবেলা থেকেই খুব শখ সফুরা খালার সাথে ভাব করার। নবু মামা চলে যাবার পর একসময় তার সফুরা খালার সাথে মোটামুটি ভাব হয়ে যায়। এদিকে নবু মামা এনট্রান্স পাশ করে যখন ফিরে আসলো তখন সে সম্পূর্ণ ভিন্ন এক চরিত্র। সে আর কাউকেই পরোয়া করে না। কিন্তু তার সেই ছোটবেলার লাল মামীর প্রতি ভালোবাসা তখনই একই রকম রয়ে গেছে। বরং তাতে আরও মাদকতা, আরও উন্মাদনা যুক্ত হয়েছে। তারপর এক প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টির রাতে দেখা যায়, নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে ঘরের দরোজা-জানালা লাগিয়ে দিয়ে গান শুনছে। কিন্তু একসময় সে গানও থেমে যায়। তাও নবু মামা আর তার ঘরে ফিরে আসে না। এ সময় বাদশাহ মামা বাড়ির বাহিরে ছিল। ঠিক সে সময়, সফুরা খালা নবু মামার খোঁজে রঞ্জুর কাছে আসে। কিন্তু নবু মামা, লাল ভাবীর সাথে শুনে সফুরা খালা বিদ্যুৎপৃষ্ঠের মত সে রাতে চলে গিয়েছিলো। রঞ্জুর বালক-মন তখন অত কিছু বুঝতে পারে নি। কিন্তু এর কিছুদিন পর দেখা গেল নবু মামা লাল মামীকে নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। তারপর একদিন, রঞ্জুর বোন লিলি রঞ্জুকে তার কাছে নিয়ে যাবার জন্যে চিঠি লিখলো। রঞ্জু তার ছেলেবেলার সমস্ত বন্ধন, আজন্ম স্মৃতিবিজড়িত নানার বাড়ি ছেড়ে এক অজানা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে যাত্রার প্রস্তুতি নিতে থাকলো। রঞ্জু অনুধাবন করলো, এতদিন সে যাদের আনন্দে আনন্দিত হয়েছে, যাদের দুঃখে দুঃখী হয়েছে তারা আসলে তার কেউ না। এ সমস্ত বন্ধন ছিন্ন করে, সব টান পিছে ফেলে তাকে সামনে এগিয়ে যেতে হবে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসে হুমায়ূন আহমেদের বর্ণনা শক্তির অসাধারণ পরিচয় পাওয়া যায়। হুমায়ূন আহমেদ সাধারণত সংলাপ নির্ভর উপন্যাস লিখেন। কিন্তু এই উপন্যাসটি বর্ণনা নির্ভর। আর সে বর্ণনার ভঙ্গি এতটাই নির্মোহ যে, যখন তিনি গল্পের মধ্যে ফ্রয়েডীয় কামের ব্যাপার তুলে আনলেন তখনও পাঠক বিন্দুমাত্র বিচলিত হবেন না। বরং পাঠকের মনে হবে এটাই তো হওয়ার কথা ছিল। এই উপন্যাসে লেখক খুব সাবধানতার সাথে গ্রাম-বাংলার জীবনের প্রতিটি দিক ছুঁয়ে গিয়েছেন। এখানে গ্রামীণ জীবনে জীন-পরীর ব্যাপারগুলোকে কীভাবে দেখা হয় তা যেমন গল্পের অংশ হয়ে উঠে এসেছে, আবার পীর-ফকির বা বাণ মারার প্রসঙ্গও বাদ যায় নি। আবার গ্রামীণ প্রভাবশালী মানুষের অহংকার বোধ যেভাবে বিনয়ের মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেত তা রঞ্জুর নানার চরিত্রটির মধ্যে দিয়ে প্রকাশ পেয়েছে। আর প্রতিটি দৃশ্যের বর্ণনা লেখক এত নিখুঁত আর বিস্তৃতভাবে দিয়েছেন যে, পাঠকমাত্রই চোখের সামনে ঘটনাগুলো দেখতে পাবেন। উপন্যাসের একদম শেষে দেখানো হয়, লাল মামী সব হারিয়ে একটি শিশু কন্যাকে নিয়ে আবার সেই বাড়িতেই ফিরে এসেছে। যে বাড়িতে বহু বছর আগে, ঠিক এরকমই নিঃস্ব অবস্থায় দু’সন্তানকে নিয়ে রঞ্জুর মা এসেছিলেন। এর মধ্যে দিয়ে যেন, লেখক একটি চক্র সম্পন্ন করলেন। আমাদের বাংলার আনাচে-কানাচে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে, শত-সহস্র পরিবারে যে চক্র নিয়ত চলমান আছে। ‘অচিনপুর’ উপন্যাসটি নিঃসন্দেহে হুমায়ূন আহমেদের একটি অন্যতম শ্রেষ্ঠ সৃষ্টি। এই মাপের একটি সৃষ্টিই একজন সাহিত্যিককে অমর করে রাখার জন্যে যথেষ্ট। এই উপন্যাসটি তার সময়ের সীমাকে অতিক্রম করেছে। এমনকি এই উপন্যাসের কিছু কিছু বিষয় শুধু বাঙালি জাতি বা বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটেই নয়, বরং যে কোন সমাজের জন্যেই সমানভাবে সত্য। ব্যক্তিগতভাবে আমার প্রথম পুরুষে লেখা উপন্যাস সব সময়ই পছন্দের। কিন্তু দুঃখের বিষয়, বাংলা সাহিত্যে এই ধরনের উপন্যাস খুব কমই পাওয়া যায়। ‘অচিনপুর’ নিঃসন্দেহে বাংলা সাহিত্যে এই ঘরানার অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপন্যাস। মহৎ সাহিত্যের রসাস্বাদনে আগ্রহী সকল পাঠকের জন্যেই এই উপন্যাসটি অবশ্যপাঠ্য।
আজ দুপুরে তোমার নিমন্ত্রণ হুমায়ূন আহমেদ ১৩টি ছোটগলপের সংকলন।...
Aaj Dupure Tomar Nimantron by Humayun Ahmed
বাংলা
আজ চিত্রার বিয়ে হুমায়ূন আহমেদ উপন্যাসের নায়িকার নাম চিত্রা। চিত্রার মায়ে...
Aaj Chitrar Biye by Humayun Ahmed
বাংলা
আজ আমি কোথাও যাবো না হুমায়ূন আহমেদ জয়নাল দু’বার ইন্টারমিডিয়েট পরীক্ষা দিয়েছে- দু’...
Aaj Ami Kothao Jabo Na by Humayun Ahmed
বাংলা
আলেয়া কাজী নজরুল ইসলাম আলেয়া কাজী নজরুল ইসলাম রচিত দ্বিতীয় নাটক...
Aleya by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
অগ্নী-বীণা কাজী নজরুল ইসলাম অগ্নিবীণা বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধের অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি কাজী নজরুল ইসলামের প্রথম কাব্যগ্রন্থ। এটি ১৩২৯ বঙ...
Agni Bina by Kazi Nazrul Islam
বাংলা
আর কত দিন জহির রায়হান জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস এই "আর কতদিন "। আকারে ছোটগল্পের থেকে খানিকটা বড় হলেও এর বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে গেছ...
Ar Koto Din by Zahir Raihan
বাংলা
লেখক দেখিয়েছেন কি করে ছেলে, বুড়ো, মেয়ে, শিশু, যুবক, যুবতী সকলেই প্রাণভয়ে আজস্র মৃতদেহ ডিঙিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে আর তাদের তাড়া করে ফিরছে কি না আমাদের মতই এক দল। তাদের অবস্থান যেমন ভিয়েতনামে তেমনি ইন্দোনেশিয়ায়, জেরুজালেমে যেমন, সাইপ্রাসেও তেমন। তারা রয়েছে ভারতে, পাকিস্তানে, হিরোশিমায়, বুখেনওয়ান্ডে.... তিনি নির্দিষ্ট কোনো গল্প বলেন নি। বরং তার লেখনীতে উঠে এসেছে সৃষ্টির আদি থেকে যত গণহত্যা ঘটেছে এবং যত ঘটবে তার চিত্র। তাই বুঝি তার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর আলাদা করে সেরকম নাম নেই। কেননা লেখক যে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো চরিত্রের নয়, একেবারেই সাধারণ মানুষের গল্প বলতে চেয়েছেন যাদের ভিড়ের মাঝে আলাদা করা যায় না, যাদের পরিচয় তাদের সম্মিলিত সত্ত্বায়...! যদিও ঘুরে ফিরে তপু আর ইভা এই নাম দু'টি এসেছে... বার কয়েক এসেছে বুড়িমা আর তার তিন ছেলের কথা। কিন্তু তবুও "আর কতদিন" ঠিক তাদের গল্প হয়ে ওঠে নি।
কেবল পালিয়ে বেড়ানো নয়, লেখক সেই সাথে দেখিয়েছেন রক্ষকও কি করে ঘাতক হয়ে ওঠে। এ সব কিছুর মাঝেও কান পাতলে শোনা যায় মানবতার গান।"মরতে হলে বিশ্বাস করেই মরবো" এ তো কেবল "মানুষের" পক্ষেই বলা সম্ভব..!! এই উক্তি কেন জানি মনে করিয়ে দেয় আনা ফ্রাংকের কথা " I still believe that people are really good at heart"..!! অদ্ভুত একটা যোগসূত্র পাই...!!
স্টপ জেনোসাইডের নির্মাতার কাছে থেকে এই তো আশা করার..!!
হাজার বছর ধরে জহির রায়হান নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা...
Hazar Bochor Dhore by Zahir Raihan
বাংলা
তৃষ্ণা ...
Trishna By Zahir Raihan
বাংলা
জহির রায়হান
এই উপন্যাসে লেখক সমাজের কয়েকটি খারাপ দিকের কথা তুলে ধরবার চেষ্টা করেছেন। এই যেমন পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক, দেহ ব্যবসা ইত্যাদি ইত্যাদি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম শওকত। একজন বেকার মানুষ। এবং সেই সাথে তার কাপুরুষতার লক্ষন সুস্পষ্ট। সে একটি ঘন বসতি সম্পন্ন এলাকায় থাকে। তিনি সেখানে "মার্থা" নামের এক বিবাহিত মহিলার সাথে পরিচিত হয়। যদিও মার্থা শওকত এর পূর্বপরিচিত। তাদের সম্পর্ক গাড় হতে হতে পরকীয়ার রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা দুজনেই স্বপ্নের জাল বুনতে আরম্ভ করে। তাদের একটি সংসার হবে, একটা ছোট্ট বাড়ি থাকবে, একটা ছোট্টও দোকানও থাকবে, তাদের কোল জুড়ে থাকবে একটি ফুটফুটে শিশু। এই জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে টাকা আয় করার জন্যে। হোক সেটা সৎ পথে, কিংবা অসৎ পথে। মার্থা তার এই অবৈধ ভালবাসার জন্যে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। মার্থা আর শওকত একই এলাকার বাসিন্দা। খুব কাছাকাছিই তাদের বাসা। তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন নর্তকী সেলিনা, বউ পেটানো কেরানী, কিছু জুয়াখেলোয়ার অন্যতম। এছাড়াও আরও একটি বিশেষ চরিত্র উপন্যাসে দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম "বুড়ো আহমদ হোসেন"। আমার কাছে এই মানুষকে এক রহস্য বলেই মনে হয়েছে। তবে গুরত্তপুর্ন ব্যাপারটি হল, লেখক এই বুড়ো মানুষের মাধ্যমেই সমাজের অনেক অনৈতিক বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন।
কাহিনি শেষের দিকে মার্থা টাকার আয় বাড়ানোর জন্য তার দোকান থেকে ঔষধ অসাধু উপায়ে বিক্রি করতে থাকে। যার ফলস্বরূপ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু শওকত এর অনুভূতি ছিল এই ব্যাপারে ভাবলেশহীন। সে বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেনি মার্থাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়াবার জন্যে। বরং শওকত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলো। একদম শেষাংশে একটি অকল্পনীয় ঘটনা লক্ষ করা যায় শওকত এর। তিনি হটাত করে কেরানীর ঘড়ে গিয়ে, দা দিয়ে এক কোপে কেরানীর মাথা কেটে ফেলেন। কেরানী খুন হয় শওকতের হাতে। খুব সম্ভব মার্থার গ্রেপ্তার হবার পেছনে কেরানীর হাত ছিল। খুন করে ছুটে পালিয়ে যাবার সময় শওকত দেখতে পায় নর্তকী সেলিনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কীর্তিকলাপ দেখছে। নিজেকে গা ঢাকা দেবার জন্য শওকত যখন ছুটে পালাচ্ছিল, তখন শুধু যাবার সময় সেলিনার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল। সেলিনাও তাকে বাঁধা দেবার কোন চেষ্টা করল না। দৌড়ুতে থাকা শওকত এর সঙ্গি হল সেলিনা।
শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হান আপনার জীবনে অনেক মেয়েই আসতে পারে যারা নিজেদের রঙে আপনার শেষ বিকেলকে তাদের মত রাঙিয়ে দেবে। কিন্তু দিনশেষে শেষ বি...
Shesh Bikeler Meye by Zahir Raihan
বাংলা
ষাটের দশক, পূর্ববঙ্গে কেরানি তথা মধ্যবিত্ত জীবন তখন জীবন সংগ্রামের অধুনা রূপটি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। স্বপ্ন তখন সংগ্রামের শর্ত। উপন্যাসটি ঠিক এই প্রেক্ষাপটে তরুণ কেরানি কাসেদের গল্প বলে যার কাছে স্বপ্নটা তখনো সংগ্রাম থেকে দূরে বা স্বপ্নকে সংগ্রামের গ্রাস থেকে বাঁচাতে যে তখনো নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।
গল্প-বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু যদি কাসেদ হয়, তাহলে গল্পের পরিধি হচ্ছে কাসেদকে ঘিরে উঠে আসা পাঁচজন মেয়ে। এদের একজন জাহানারা, যে দেখে একদিকে যেমন একঘেয়ে যান্ত্রিকতার ভীড়ে একমাত্র কাসেদের মত মধ্যবিত্তরাই তাকে স্বপ্নে স্থান দিতে পারে; অপরদিকে তেমন মধ্যবিত্তসত্ত্বার বাইরে এসে কাসেদরা কখনোই উচ্চবিত্তের জাহানারাদের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। তাই দিনশেষে কারো প্রেয়সী নয়, বরং তার নিজের মত উচ্চবিত্ত কারো ঘরের পুতুল হওয়ার প্রস্তুতিই তাকে নিতে হয়।
অপরজন সালমা, কাসেদের খালাতো বোন; সালমা সেই কৈশোর থেকে কাসেদকে ভালোবেসে আসলেও কাসেদ কখনো পারেনি বাবাহারা পরিবারের বোঝা অপেক্ষা সালমার প্রেমকে বড় করে দেখতে। ফলে একসময় সালমার বিয়ে হয়ে যায় বড় চাকুরে কোন ছেলের সাথে এবং সেই সংসারের শো-পিস হয়ে থাকতে হয় সালমাকে। তবে বিয়ের পরও নিজের শো-পিস সত্ত্বার বাইরে এসে সালমা যখন কারো ভালোবাসা পাওয়ার তৃষ্ণায় কাতর হয়েছে, তখনো সে কাসেদ ছাড়া এই যান্ত্রিক সমাজে কাউকে খুঁজে পায়নি। কিন্তু কাসেদ নিজের মধ্যবিত্তসত্ত্বার সীমারেখা পার হয়ে তখনো সালমাকে তার প্রাপ্য ভালোবাসা দিতে পারেনি।
এরপর আসে কাসেদের সিনিয়র এক কলিগের মেয়ে, উপন্যাসে তার পরিচয় "কৃষ্ণবর্ণ মেয়েটি"। জাহানারার কাছে নিজের দুর্ভেদ্য প্রকাশ নিয়ে কাসেদ যখন ক্লান্ত, তখনই দৃশ্যপটে আসে মেয়েটি। কন্যাদায়গ্রস্ত কলিগের টানাটানির সংসারের এই মেয়েটি ক্লান্ত কাসেদের কল্পনা-পটে নির্মল ছায়া হয়ে হাজির হতে থাকে। কিন্তু অফিসের বড় সাহেবকে তার বিত্তশালী স্ত্রী ডিভোর্স দিলে সেও এই মেয়েটির মধ্যেই নিজের শেষ ঠিকানা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত অবধারিতভাবেই বড় সাহেবই জিতে নেয় সেই কৃষ্ণবর্ণা শীতল ছায়া-কন্যাকে। মধ্যবিত্ত মানুষিকতার বাধায় এখানেও অপ্রকাশিত থেকে যায় কাসেদ।
এরপর শিউলি, জাহানারার কাজিন। মেয়ে হিসেবে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা, স্বাধীনচেতা, কর্তৃত্বপরায়ণ। ছেলেদের সাথে শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্কে বিশ্বাসী এই মেয়েটি এক সময় কাসেদের উপর দুর্বল হলেও নিজের কৃর্তৃত্বসুলভ সত্ত্বা বজায় রাখতে সেও প্রত্যাখ্যান করে বসে কাসেদকে। আর সেটা এমন একটা সময়ে যখন জাহানারা, সালমা আর সেই কৃষ্ণবর্ণাকে হারিয়ে কাসেদ অনেকটা অসহায়!

















