Popular Products

Recent Products

Showing posts with label Zahir Raihan. Show all posts

আর কত দিন জহির রায়হান জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস এই "আর কতদিন "। আকারে ছোটগল্পের থেকে খানিকটা বড় হলেও এর বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে গেছ...

Ar Koto Din by Zahir Raihan

Ar Koto Din by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99
আর কত দিন
জহির রায়হান


জহির রায়হানের অনবদ্য এক উপন্যাস এই "আর কতদিন "। আকারে ছোটগল্পের থেকে খানিকটা বড় হলেও এর বিষয়বস্তু ছাড়িয়ে গেছে জাতি, ধর্ম, বর্ণ, দেশ আর কালের সীমানা। পুরো উপন্যাস জুড়েই লেখক গণহত্যা আর মানবতা লঘ্ননের কথা বলেছেন ছোট ছোট বাক্য আর নাতিদীর্ঘ চিত্রকল্পের গাঁথুনিতে..!! কিন্তু কি আশ্চর্যরকম ধারই না তাতে..!!
লেখক দেখিয়েছেন কি করে ছেলে, বুড়ো, মেয়ে, শিশু, যুবক, যুবতী সকলেই প্রাণভয়ে আজস্র মৃতদেহ ডিঙিয়ে ছুটে বেড়াচ্ছে পৃথিবীর এ প্রান্ত হতে ও প্রান্তে আর তাদের তাড়া করে ফিরছে কি না আমাদের মতই এক দল। তাদের অবস্থান যেমন ভিয়েতনামে তেমনি ইন্দোনেশিয়ায়, জেরুজালেমে যেমন, সাইপ্রাসেও তেমন। তারা রয়েছে ভারতে, পাকিস্তানে, হিরোশিমায়, বুখেনওয়ান্ডে.... তিনি নির্দিষ্ট কোনো গল্প বলেন নি। বরং তার লেখনীতে উঠে এসেছে সৃষ্টির আদি থেকে যত গণহত্যা ঘটেছে এবং যত ঘটবে তার চিত্র। তাই বুঝি তার উপন্যাসের চরিত্রগুলোর আলাদা করে সেরকম নাম নেই। কেননা লেখক যে সাধারণ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী কোনো চরিত্রের নয়, একেবারেই সাধারণ মানুষের গল্প বলতে চেয়েছেন যাদের ভিড়ের মাঝে আলাদা করা যায় না, যাদের পরিচয় তাদের সম্মিলিত সত্ত্বায়...! যদিও ঘুরে ফিরে তপু আর ইভা এই নাম দু'টি এসেছে... বার কয়েক এসেছে বুড়িমা আর তার তিন ছেলের কথা। কিন্তু তবুও "আর কতদিন" ঠিক তাদের গল্প হয়ে ওঠে নি।
কেবল পালিয়ে বেড়ানো নয়, লেখক সেই সাথে দেখিয়েছেন রক্ষকও কি করে ঘাতক হয়ে ওঠে। এ সব কিছুর মাঝেও কান পাতলে শোনা যায় মানবতার গান।"মরতে হলে বিশ্বাস করেই মরবো" এ তো কেবল "মানুষের" পক্ষেই বলা সম্ভব..!! এই উক্তি কেন জানি মনে করিয়ে দেয় আনা ফ্রাংকের কথা " I still believe that people are really good at heart"..!! অদ্ভুত একটা যোগসূত্র পাই...!!
স্টপ জেনোসাইডের নির্মাতার কাছে থেকে এই তো আশা করার..!!






হাজার বছর ধরে        জহির রায়হান নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা...

Hazar Bochor Dhore by Zahir Raihan

Hazar Bochor Dhore by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99

হাজার বছর ধরে

       জহির রায়হান

নদী বয়ে চলেছে আপন গতিতে। গাছে গাছে ফুল ফোটে। আকাশে পাখি উড়ে- আপন মনে গান গায়। হাজার বছর ধরে যেই জীবনধারা বয়ে চলেছে, তাতে আশা-নিরাশা, প্রেম-ভালবাসা, চাওয়া-পাওয়ার খেলা চললেও তা সহজে চোখে পড়ে না, অন্ধকারে ঢাকা থাকে। কঠিন অচলায়তন সমাজে আর যাই থাকুক, নারীর কোন অধিকার নাই। নারী হাতের পুতুল মাত্র। পুরুষ তাকে যেমন নাচায় তেমন নাচে। নিজের ইচ্ছেতে কাউকে বিয়ে করাটা এমন সমাজে অপরাধ, গুরুতর অপরাধ। অন্ধকার এই সমাজে আনাচে কানাচে বাস করে কুসংস্কার, বাল্যবিবাহ, বহুবিবাহ, নারী নির্যাতন। পরীর দীঘির পাড়ের একটি গ্রামকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে কাহিনী। কখন এই গ্রামের গোড়াপত্তন হয়েছিল কেউ বলতে পারে না। এক বন্যায় “কাশেম শিকদার” আর তার বউ “ছমিরন বিবি” বানের পানিতে ভেলায় ভাসতে ভাসতে এসে ঠাঁই নিয়েছিল এই জায়গায়। সেই থেকে এখানে পত্তন হয়েছে শিকদার বাড়ির।
শিকদার বাড়িতে বাস করে বৃদ্ধ “মকবুল” ও তার তিন স্ত্রী সহ “আবুল”, “রশিদ”, “ফকিরের মা” ও “মন্তু” এবং আরো অনেকে। বৃদ্ধ মকবুলের চতুর্দশবর্ষী বউ টুনির মনটা মকবুলের শাসন মানতে চায় না। সে চায় খোলা আকাশের নিচে বেড়াতে, হাসতে, খেলতে। তাই সঙ্গী হিসেবে বেছে নেয় অল্প বয়সী সুঠামদেহী মন্তুকে। মন্তু বাবা-মা হারা, অনাথ। বিভিন্ন কাজ করে বেড়ায়। টুনি আর মন্ত সকলের অগোচরে রাতের বেলায় বেরিয়ে পড়ে মাছ ধরতে। বর্ষায় যায় শাপলা তুলতে। এমনি করে দুজন দুজনার কাছে এসে যায়। অব্যক্ত ভালবাসার জোয়ারে ভাসে ওরা দু’জন। কিন্ত কেউ মুখ ফুঁটে বলতে পারেনা মনের কথা, লোক লজ্জার ভয়ে। সমাজের রক্ত চক্ষু ওদের দূরে রাখে।
গ্রাম-বাংলায় যা হয়, কলেরা বসন্তের বাতাস লাগলে উজাড় হয়ে যায় কয়েক ঘর মানুষ। ডাক্তার না দেখিয়ে তারা টুকটাক তাবিজ করে, এভাবেই দিন চলে। মকবুলের আকস্মিক মৃত্যুর পর মন্তু যখন মনের কথা টুনিকে খুলে বলে তখন অনেক দেরি হয়ে গেছে। গনু মোল্লা, আম্বিয়া, রশিদ, ফকিরের মা, সালেহা কেউই নেই। টুনির সঙ্গে মন্তুর অনেক দিন দেখা হয়নি। টুনি হারিয়ে গেছে ওর জীবন থেকে। তবুও টুনিকে মাঝে মাঝে মনে পড়ে মন্তুর। এমনি করে অনেকটা সময় পার হয়েছে। রাতের বেলা সুরত আলীর ছেলে ওর বাপের মতোই পুঁথি করে- “শোন শোন বন্ধুগনে শোন দিয়া মন, ভেলুয়ার কথা কিছু শান সর্বজন।” ভেলুয়া সুন্দরীর কথা সবাই শানে। একই তালে, একই সুরে হাজার বছরের অন্ধকার এক ইতিহাস নিয়ে এগিয়ে চলে সবাই। হাজার বছরের পুরনো জোৎস্না ভরা রাতে একই পুঁথির সুর ভেসে বেড়ায় বাতাসে।
কালের আবর্তে সময় গড়ায়। প্রকৃতিতেও পরিবর্তন আসে। শুধু পরিবর্তন আসেনা অন্ধকার, কুসংস্কারাচ্ছন্ন গ্রাম বাংলার আচলায়াতন সমাজে।





                                                                  তৃষ্ণা                                                                    ...

Trishna By Zahir Raihan

Trishna By Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99
                                                                  তৃষ্ণা
                                                                    
                                                                                জহির রায়হান



এই উপন্যাসে লেখক সমাজের কয়েকটি খারাপ দিকের কথা তুলে ধরবার চেষ্টা করেছেন। এই যেমন পরকীয়া, অবৈধ সম্পর্ক, দেহ ব্যবসা ইত্যাদি ইত্যাদি। উপন্যাসের প্রধান চরিত্রের নাম শওকত। একজন বেকার মানুষ। এবং সেই সাথে তার কাপুরুষতার লক্ষন সুস্পষ্ট। সে একটি ঘন বসতি সম্পন্ন এলাকায় থাকে। তিনি সেখানে "মার্থা" নামের এক বিবাহিত মহিলার সাথে পরিচিত হয়। যদিও মার্থা শওকত এর পূর্বপরিচিত। তাদের সম্পর্ক গাড় হতে হতে পরকীয়ার রূপ নেয়। একপর্যায়ে তারা দুজনেই স্বপ্নের জাল বুনতে আরম্ভ করে। তাদের একটি সংসার হবে, একটা ছোট্ট বাড়ি থাকবে, একটা ছোট্টও দোকানও থাকবে, তাদের কোল জুড়ে থাকবে একটি ফুটফুটে শিশু। এই জন্য তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করে টাকা আয় করার জন্যে। হোক সেটা সৎ পথে, কিংবা অসৎ পথে। মার্থা তার এই অবৈধ ভালবাসার জন্যে যে কোন ত্যাগ স্বীকার করতে প্রস্তুত। মার্থা আর শওকত একই এলাকার বাসিন্দা। খুব কাছাকাছিই তাদের বাসা। তাদের প্রতিবেশীদের মধ্যে একজন নর্তকী সেলিনা, বউ পেটানো কেরানী, কিছু জুয়াখেলোয়ার অন্যতম। এছাড়াও আরও একটি বিশেষ চরিত্র উপন্যাসে দেখতে পাওয়া যায়, যার নাম "বুড়ো আহমদ হোসেন"। আমার কাছে এই মানুষকে এক রহস্য বলেই মনে হয়েছে। তবে গুরত্তপুর্ন ব্যাপারটি হল, লেখক এই বুড়ো মানুষের মাধ্যমেই সমাজের অনেক অনৈতিক বিষয়বস্তু তুলে ধরেছেন। 
কাহিনি শেষের দিকে মার্থা টাকার আয় বাড়ানোর জন্য তার দোকান থেকে ঔষধ অসাধু উপায়ে বিক্রি করতে থাকে। যার ফলস্বরূপ পুলিশ তাকে গ্রেফতার করে নিয়ে যায়। কিন্তু শওকত এর অনুভূতি ছিল এই ব্যাপারে ভাবলেশহীন। সে বিন্দুমাত্র চেষ্টাও করেনি মার্থাকে পুলিশের কাছ থেকে ছাড়াবার জন্যে। বরং শওকত নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছিলো। একদম শেষাংশে একটি অকল্পনীয় ঘটনা লক্ষ করা যায় শওকত এর। তিনি হটাত করে কেরানীর ঘড়ে গিয়ে, দা দিয়ে এক কোপে কেরানীর মাথা কেটে ফেলেন। কেরানী খুন হয় শওকতের হাতে। খুব সম্ভব মার্থার গ্রেপ্তার হবার পেছনে কেরানীর হাত ছিল। খুন করে ছুটে পালিয়ে যাবার সময় শওকত দেখতে পায় নর্তকী সেলিনা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তার কীর্তিকলাপ দেখছে। নিজেকে গা ঢাকা দেবার জন্য শওকত যখন ছুটে পালাচ্ছিল, তখন শুধু যাবার সময় সেলিনার হাত ধরে হ্যাঁচকা টান দিল। সেলিনাও তাকে বাঁধা দেবার কোন চেষ্টা করল না। দৌড়ুতে থাকা শওকত এর সঙ্গি হল সেলিনা।







                                             Download or Read Online

শেষ বিকেলের মেয়ে জহির রায়হান আপনার জীবনে অনেক মেয়েই আসতে পারে যারা নিজেদের রঙে আপনার শেষ বিকেলকে তাদের মত রাঙিয়ে দেবে। কিন্তু দিনশেষে শেষ বি...

Shesh Bikeler Meye by Zahir Raihan

Shesh Bikeler Meye by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99



শেষ বিকেলের মেয়ে
জহির রায়হান

আপনার জীবনে অনেক মেয়েই আসতে পারে যারা নিজেদের রঙে আপনার শেষ বিকেলকে তাদের মত রাঙিয়ে দেবে। কিন্তু দিনশেষে শেষ বিকেলের মেয়ে তাকেই বলতে হয় যে দিনশেষে আপনার আশ্রয় হয়।

ষাটের দশক, পূর্ববঙ্গে কেরানি তথা মধ্যবিত্ত জীবন তখন জীবন সংগ্রামের অধুনা রূপটি নিয়ে দাঁড়িয়ে গেছে। স্বপ্ন তখন সংগ্রামের শর্ত। উপন্যাসটি ঠিক এই প্রেক্ষাপটে তরুণ কেরানি কাসেদের গল্প বলে যার কাছে স্বপ্নটা তখনো সংগ্রাম থেকে দূরে বা স্বপ্নকে সংগ্রামের গ্রাস থেকে বাঁচাতে যে তখনো নিজের সাথে নিজে যুদ্ধ করে যাচ্ছে।

গল্প-বৃত্তের কেন্দ্রবিন্দু যদি কাসেদ হয়, তাহলে গল্পের পরিধি হচ্ছে কাসেদকে ঘিরে উঠে আসা পাঁচজন মেয়ে। এদের একজন জাহানারা, যে দেখে একদিকে যেমন একঘেয়ে যান্ত্রিকতার ভীড়ে একমাত্র কাসেদের মত মধ্যবিত্তরাই তাকে স্বপ্নে স্থান দিতে পারে; অপরদিকে তেমন মধ্যবিত্তসত্ত্বার বাইরে এসে কাসেদরা কখনোই উচ্চবিত্তের জাহানারাদের কাছে নিজেদের মেলে ধরতে পারে না। তাই দিনশেষে কারো প্রেয়সী নয়, বরং তার নিজের মত উচ্চবিত্ত কারো ঘরের পুতুল হওয়ার প্রস্তুতিই তাকে নিতে হয়।
অপরজন সালমা, কাসেদের খালাতো বোন; সালমা সেই কৈশোর থেকে কাসেদকে ভালোবেসে আসলেও কাসেদ কখনো পারেনি বাবাহারা পরিবারের বোঝা অপেক্ষা সালমার প্রেমকে বড় করে দেখতে। ফলে একসময় সালমার বিয়ে হয়ে যায় বড় চাকুরে কোন ছেলের সাথে এবং সেই সংসারের শো-পিস হয়ে থাকতে হয় সালমাকে। তবে বিয়ের পরও নিজের শো-পিস সত্ত্বার বাইরে এসে সালমা যখন কারো ভালোবাসা পাওয়ার তৃষ্ণায় কাতর হয়েছে, তখনো সে কাসেদ ছাড়া এই যান্ত্রিক সমাজে কাউকে খুঁজে পায়নি। কিন্তু কাসেদ নিজের মধ্যবিত্তসত্ত্বার সীমারেখা পার হয়ে তখনো সালমাকে তার প্রাপ্য ভালোবাসা দিতে পারেনি।
এরপর আসে কাসেদের সিনিয়র এক কলিগের মেয়ে, উপন্যাসে তার পরিচয় "কৃষ্ণবর্ণ মেয়েটি"। জাহানারার কাছে নিজের দুর্ভেদ্য প্রকাশ নিয়ে কাসেদ যখন ক্লান্ত, তখনই দৃশ্যপটে আসে মেয়েটি। কন্যাদায়গ্রস্ত কলিগের টানাটানির সংসারের এই মেয়েটি ক্লান্ত কাসেদের কল্পনা-পটে নির্মল ছায়া হয়ে হাজির হতে থাকে। কিন্তু অফিসের বড় সাহেবকে তার বিত্তশালী স্ত্রী ডিভোর্স দিলে সেও এই মেয়েটির মধ্যেই নিজের শেষ ঠিকানা খুঁজে পায়। শেষ পর্যন্ত অবধারিতভাবেই বড় সাহেবই জিতে নেয় সেই কৃষ্ণবর্ণা শীতল ছায়া-কন্যাকে। মধ্যবিত্ত মানুষিকতার বাধায় এখানেও অপ্রকাশিত থেকে যায় কাসেদ।
এরপর শিউলি, জাহানারার কাজিন। মেয়ে হিসেবে সে অন্যদের চেয়ে আলাদা, স্বাধীনচেতা, কর্তৃত্বপরায়ণ। ছেলেদের সাথে শুধু বন্ধুত্বের সম্পর্কে বিশ্বাসী এই মেয়েটি এক সময় কাসেদের উপর দুর্বল হলেও নিজের কৃর্তৃত্বসুলভ সত্ত্বা বজায় রাখতে সেও প্রত্যাখ্যান করে বসে কাসেদকে। আর সেটা এমন একটা সময়ে যখন জাহানারা, সালমা আর সেই কৃষ্ণবর্ণাকে হারিয়ে কাসেদ অনেকটা অসহায়!





কয়েকটি মৃত্যু জহির রায়হান কয়েকটি মৃত্যু  উপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার  জহির রায়হানের  রচিত একটি উপন্যাস। আমরা প্রতিদিনের জীবনে সবসময় হাজারও ক...

Koyekti Mrityu by Zahir Raihan

Koyekti Mrityu by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99
কয়েকটি মৃত্যু
জহির রায়হান

কয়েকটি মৃত্যু উপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার জহির রায়হানের রচিত একটি উপন্যাস।
আমরা প্রতিদিনের জীবনে সবসময় হাজারও কাজের ভিড়ে মৃত্যুর বাস্তবতাকে ভুলে থাকি বা থাকতে চেষ্টা করি। কিন্তু কখনও এই চিরসত্য পরিণতিকে এড়ানো সম্ভব হয় না। এই সত্য যখন মানুষের খুব কাছে এসে দাঁড়ায় তখন নিজের জীবন বাঁচানোর জন্য এই মানুষ কতটা স্বার্থপর হতে পারে, সেই চিত্রই লেখক অসাধারণভাবে তুলে ধরেছেন এই উপন্যাসটিতে।




একুশে ফেব্রুয়ারী       জহির রায়হান একুশে ফ্রেব্রুয়ারী  উপন্যাসটি বিখ্যাত উপন্যাসিক  জহির রায়হান   এর  এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি ভাষা আন্দোলনে...

Ekushe February by Zahir Raihan

Ekushe February by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99

একুশে ফেব্রুয়ারী   
  জহির রায়হান


একুশে ফ্রেব্রুয়ারী
 উপন্যাসটি বিখ্যাত উপন্যাসিক জহির রায়হান 
এর এক অনবদ্য সৃষ্টি। তিনি ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণ করতে চেয়েছিলেন, এ উপন্যাসটি সেই উদ্দেশ্যেই ১৯৭০ সালে লেখা।

বায়ান্ন সালের ভাষা আন্দোলন শুধু এদেশের রাজনীতির ক্ষেত্রে নয়, শিল্প সংস্কৃতির ক্ষেত্রেও নতুন চেতনাপ্রবাহ সৃষ্টি করেছিল; এই চেতনা ছিল অসাম্প্রদায়িক, গণতান্তিক এবং সামাজিক মূল্যবোধসঞ্জাত|কাচের দেয়াল  চলচ্চিত্র নির্মাণের পরে তিনি একুশে ফেব্রুয়ারী নামে একটি চলচ্চিত্র নির্মাণের পরিকল্পনা করেন; কিন্তু তিনি তা করতে পারেননি| পরবর্তিতে তিনি জীবন থেকে নেয়া চলচ্চিত্রে ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপট যোগ করেন এবং তার অপ্রকাশিত চলচ্চিত্রকে উপন্যাস আকারে প্রকাশ করেন|









বরফ গলা নদী জহির রায়হান ক্ষয়িঞ্চু নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ, বেদনা, পাওয়া-না পাওয়াগুলোকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে ...

Borof Gola Nodi by Zahir Raihan

Borof Gola Nodi by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99
বরফ গলা নদী
জহির রায়হান

ক্ষয়িঞ্চু নিম্ন-মধ্যবিত্ত একটি পরিবারের ঘাত-প্রতিঘাত, আনন্দ, বেদনা, পাওয়া-না পাওয়াগুলোকে উপজীব্য করে রচিত হয়েছে 'বরফ গলা নদী'। ১৯৬৯ সালের একটি নিম্ন-মধ্যবিত্ত পরিবারের জীবনযাত্রা কেমন ছিল সেই ব্যাপারে সম্যক ধারণা পাওয়া যাবে উপন্যাসটি থেকে।

কি চমৎকার লিখে লোকটা! মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর নিত্যদিনের গল্পও উপন্যাস হয় যায়!
লিলির খুব সাদাসিধে স্বপ্ন আর ভালোবাসার গল্প, মরিয়মের সংগ্রামী একেকটা দিন, হাসমত আলীর অসহায়বোধের তীব্র যাতনা, মাতৃত্বের স্নেহে সালেহা বিবির বিকিয়ে দেওয়া আত্মসম্মানবোধ, চরম বিপদের দিনেও মানুষের প্রতি শাহাদাতের বিশ্বাস -এইসব অনুভূতি মিলিয়ে পরিপূর্ণ একটা উপন্যাস।
এবং মাহমুদ! যে দ্রারিদ্র‍্যের কাছে কখনও মাথা নত করেনি। ঈশ্বরের প্রতি তীব্র অভিমান আর কাছের মানুষগুলোর জন্য লুকিয়ে রাখা স্নেহ-ভালোবাসা - সবকিছু প্রকাশ করতো রাগ দিয়ে।
মধ্যবিত্ত মানুষগুলোর পারিবারিক একটা গ্রুপ ছবি তোলাটাও রীতিমতো উৎসব! কত সংকোচ, লজ্জা আর গোপন চাওয়ার তোলা একটা ছবিও বছর শেষে স্মৃতি হয়ে যায়। শুধু অনুভূতিগুলো কখনও ফিকে হয়না!





আরেক ফাল্গুন জহির রায়হান মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম একটি নাম জহির রায়হান। তিনি শহীদ হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকার মিরপুরে ১৯...

Arek Falgun by Zahir Raihan

Arek Falgun by Zahir Raihan

Zahir Raihan

8 10 99



আরেক ফাল্গুন
জহির রায়হান


মুক্তিযুদ্ধের শহীদ বুদ্ধিজীবীদের অন্যতম একটি নাম জহির রায়হান। তিনি শহীদ হয়েছিলেন স্বাধীন বাংলাদেশে ঢাকার মিরপুরে ১৯৭২ সালের জানুয়ারি মাসে। লোকমুখে জেনেছিলেন, সেখানে তাঁর বড় ভাই শহীদুল্লা কায়সারসহ অনেক বুদ্ধিজীবীকে আটকে রেখেছে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও অবাঙালি রাজাকার-আলবদররা। সেখানে যাওয়ার পর জহির রায়হানকে আর কখনো কেউ কোথাও দেখেনি। অবরুদ্ধ মিরপুরকে মুক্ত করতে সেদিন তুমুল যুদ্ধ হয়েছিল, মিরপুর মুক্তও হয়েছিল। কিন্তু প্রাণ বিসর্জনও দিতে হয়েছিল অনেককে। জহির রায়হানের অনুপস্থিতি নানা রকমের কল্পনার জন্ম দিয়েছিল। কেউ বলেছিলেন, তাঁকে পাকিস্তানে নিয়ে গেছে সেনাবাহিনী। কেউ-বা ভেবেছিলেন, তিনি বেঁচে আছেন অন্য কোথাও। হয়তো ফিরে আসবেন যেকোনো দিন। এ নিয়ে দীর্ঘদিন অনুসন্ধানী গবেষণা করে ছুটে বেড়িয়েছেন সাংবাদিক জুলফিকার মানিক। বুকের ভেতর শোকের পাথর একমুহূর্ত স্বস্তি দেয়নি জহির রায়হানের সন্তান অনল রায়হানকে। অবশেষে সত্যিটা আবিষ্কৃত হয়েছে। আমরা জেনে গেছি, মিরপুর মুক্ত করার ওই রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন জহির রায়হান। 
মুক্তিযুদ্ধের নয় মাস জহির রায়হান রণাঙ্গনে ছুটে বেড়িয়েছিলেন বন্দুকের চেয়েও আরও শক্তিশালী একটি অস্ত্র নিয়ে। তাঁর কাঁধে ছিল সেলুলয়েড ক্যামেরা। সীমান্তের ওপারের শরণার্থী শিবিরে কোটি বাঙালির সর্বস্ব হারানোর হাহাকার, পাকিস্তানি হানাদারদের পাশবিকতায় ধর্ষিত কিশোরীর বিহ্বল মুখ কিংবা উদোম গায়ে কান্নারত শিশুর অস্থির আর্তনাদ তিনি চিত্রায়ণ করেছিলেন। পুড়ে যাওয়া বসতভিটা, মৃতদেহের ওপর কুকুর ও শকুনের হামলে পড়া, চলতি পথে বয়সের ভারে বসে পড়া নিরুপায় বৃদ্ধাকে তাঁরই সন্তান কিংবা স্বজন কাঁধে তুলে নিয়ে ছুটে চলেছে সত্রাসে, হু হু করা কান্নার এসব দৃশ্য সম্পাদনা করে তিনি নির্মাণ করেছিলেন তাঁর অসাধারণ তথ্যচিত্র স্টপ জেনোসাইড। কুশলী নির্মাতা হিসেবে তাঁর খ্যাতি ছিল যুদ্ধের আগে থেকেই। তাঁরই হাতে নির্মিত হয়েছিল জীবন থেকে নেয়ার মতো পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। উনসত্তরের গণ-অভ্যুত্থানের সাংস্কৃতিক জাগরণে এই চলচ্চিত্র বারুদে আগুন দেওয়ার ভূমিকা পালন করেছিল। জহির রায়হান ছিলেন কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, চলচ্চিত্রকার এবং রাজনৈতিক-সাংস্কৃতিক কর্মী। বাম পন্থার মতানুসারী মুক্ত হাতে তিনি বেশ কটি উপন্যাস রচনা করেছিলেন। এর একটির নাম আরেক ফাল্গুন। ভাষা আন্দোলনের প্রেক্ষাপটের এই উপন্যাসে তিনি ভবিষ্যৎদ্রষ্টার মতো করে সত্য ভাষণ উচ্চারণ করেছিলেন। ট্রাকে ট্রাকে করে গ্রেপ্তার করা ছাত্র-রাজনৈতিক-কর্মীদের যখন জেলখানায় ঢোকানো হচ্ছিল, উপচে পড়ছিল বন্দীদের ভিড় ও কোলাহল, তখন বিরক্তিতে চোখ-মুখ কুঁচকে মাটিতে থুতু ফেলে জেলার বিড়বিড় করে বলেছিলেন, আর কত আসবে? সেই কথা শুনে উপন্যাসের নায়ক চিৎকার করে বলেছিলেন, ‘জেলার সাহেব, জেলখানা বড় করুন। আসছে ফাল্গুনে আমরা দ্বিগুণ হব।